parbattanews

উত্তর-পূর্ব ভারতে পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম, অস্ত্রের রুট ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ

স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে উত্তর-পূর্ব ভারত। ভারতীয় নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তাদের বিভিন্ন লেখালেখি থেকে ইতোমধ্যেই স্পষ্ট হয়েছে যে, পার্বত্য চট্টগ্রামের এই বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ভারতের পৃষ্ঠপোষকতা, প্রশিক্ষণ, আশ্রয় ও প্রশ্রয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছে। বিগত ৫৪ বছরে ভারত ও বাংলাদেশে সরকার ও রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নানা হিসাব-নিকাশ সত্ত্বেও পার্বত্য সন্ত্রাসীদের উত্তর-পূর্ব ভারতে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার ভারতীয় নীতির পরিবর্তন হয়নি।

এমনকি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলের একতরফা ভারতপ্রেমী নীতির সময়েও নয়াদিল্লি তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লুকিয়ে থাকা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আটকে করে ভারতের হাতে তুলে দিলেও, সে দেশে অবস্থান করা পার্বত্য চট্টগ্রামের একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী নেতাকেও আটক বা বহিষ্কার করে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেয়নি ভারত।

এই প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে যখন পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা, অখণ্ডতা, সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতে লুকিয়ে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা। নতুন সরকার ভারতের সাথে সমমর্যাদাপূর্ণ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক উন্নয়নে অত্যন্ত আন্তরিক হলেও, ভারতের মাটিতে অবস্থানরত পার্বত্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা সেই সম্পর্কের মধ্যে চোখের বালির মতো অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এহেন পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ জুন) থেকে দিল্লিতে শুরু হওয়া বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের তরফ থেকে ভারতে লুকিয়ে থাকা পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে জোরালো অবস্থান নেওয়া হবে বলে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র মতে, বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভূপ্রকৃতি ও কৌশলগত অবস্থানের সুযোগ নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এক সমান্তরাল শাসনব্যবস্থা কায়েম করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে- বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে পাহাড়ের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা এখন ভারতের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রাজ্যে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে। একই সাথে, সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে দুর্গম রুট ব্যবহার করে দেশে ঢুকছে ভারী আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, যা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে ভারতে অবস্থান
অনুসন্ধানে জানা গেছে, পার্বত্য অঞ্চলের প্রধান সশস্ত্র দলগুলোর সামরিক শাখার শীর্ষস্থানীয় অন্তত আটজন নেতা বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অবস্থান করে হীন কার্যক্রম সচল রেখেছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর পক্ষ থেকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এর কাছে এই আটজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম, ছবি, তাদের সাংগঠনিক পদবি এবং ভারতে তাদের বর্তমান সম্ভাব্য লোকেশন সংক্রান্ত বিস্তারিত নথিপত্র বা মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে।

হস্তান্তর করা তালিকার শীর্ষ পাঁচজন অপরাধী এবং তাদের বর্তমান অবস্থান নিচে তুলে ধরা হলো:
লক্ষ্মী প্রসাদ চাকমা
পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র গ্রুপিংয়ের এই প্রভাবশালী নেতা বর্তমানে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে অবস্থান করছেন। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সামরিক শাখার প্রধান বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

প্রণতি বিকাশ চাকমা
জেএসএস সামরিক শাখার অন্যতম শীর্ষ এই কমান্ডার ভারতের পশ্চিম ত্রিপুরা অঞ্চলে অবস্থান নিয়ে ওপার থেকে তাঁর সশস্ত্র গ্রুপের দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন।

মঙ্গল চাকমা
একসময়ে জেএসএস সামরিক শাখার গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা পরবর্তীকালে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদকের দায়িত্বেও ছিলেন দীর্ঘদিন। জনসংহতি সমিতির পক্ষে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং লেখালেখির মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে জনমত গড়ে তোলার নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন তিনি। তাঁর বর্তমান অবস্থান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে।

রবি শংকর চাকমা
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতের রাজধানী নিউ দিল্লিতে অবস্থান করছেন এই শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইউপিডিএফ এর সামরিক শাখার প্রধান বলে কথিত।

নাথান বম
পাহাড়ি অঞ্চলের অন্যতম উগ্র ও সশস্ত্র সংগঠন কেএনএফ (কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্ট)-এর এই প্রধান বর্তমানে ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আত্মগোপন করে আছেন।

এছাড়াও তথাকথিত জুম্মল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবিদার করুণালঙ্কার ভান্তে ওরফে মনোগীত জুম্মা, প্রজ্ঞা তাপস চাকমা ওরফে পিটি চাকমা ও মানবাধিকার কর্মীর আড়ালে থাকা সুহাস চাকমা ভারতের মাটিতে বসে যেভাবে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার ও পার্বত্য বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সমন্বয়ের কাজ করছেন, সে বিষয়গুলোও এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আসতে পারে।

দুর্গমতার সুযোগ ও সীমান্ত পারাপার
পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান- এই তিন জেলার সীমান্ত মূলত ভারত ও মিয়ানমারের সাথে সংযুক্ত। এই সীমান্তের একটি বড় অংশ অত্যন্ত দুর্গম, পাহাড়ি এবং গহীন অরণ্যে ঘেরা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখনই পাহাড়ের গহীনে সন্ত্রাসবিরোধী চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে, তখনই এই ভৌগোলিক দুর্গমতার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের মিজোরাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে গিয়ে আত্মগোপন করে। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে তারা পুনরায় বাংলাদেশে প্রবেশ করে তাদের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করে।

জেএসএস (সন্তু) গ্রুপের অস্ত্রের ট্রানজিট রুট
পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘জেএসএস (সন্তু)’ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করছে মূলত মিয়ানমার ও ভারতের মিজোরাম রাজ্য থেকে। সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের ব্যবহৃত প্রধান রুটগুলো হলো:

মিয়ানমার রুট
মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে ‘আরাকান আর্মি’ ও অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যদের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র প্রথমে বান্দরবান জেলার সানুসানপাড়া, রুমানাপাড়া, দার্জিলিংপাড়া ও বগামুখপাড়া (রুমা ও রোয়াংছড়ি উপজেলা) হয়ে রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

মিজোরাম ও ত্রিপুরা রুট
ভারতের মিজোরাম ও সংলগ্ন সীমান্ত ব্যবহার করে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক হয়ে লংগদুতে অস্ত্র পৌঁছানো হয়। এ ছাড়া মিজোরাম থেকে রাঙামাটির বরকল উপজেলার ঠেগামুখ, মাস্টারপাড়া ও হরিণা হয়ে এবং বিলাইছড়ি উপজেলার বড়থলি, বগাখালী ও পানকাটাছড়া দিয়ে অস্ত্র ও গোলাবারুদ সমতল ও পাহাড়ি অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হলো রাঙামাটির জুরাছড়ি সীমান্ত।

ইউপিডিএফ (প্রসীত) গ্রুপের অস্ত্র ও রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা
পূর্ণাঙ্গ স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ইউপিডিএফ (প্রসীত)’ গ্রুপও সমান্তরালভাবে অস্ত্র চোরাচালান বজায় রেখেছে। তাদের অস্ত্র আদান-প্রদানের সম্ভাব্য রুটগুলোর পরিধি আরও বিস্তৃত:

বান্দরবান-মিয়ানমার সীমান্ত: মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য থেকে যুদ্ধরত ‘আরাকান আর্মি’ ও অন্যান্য বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সশস্ত্র সদস্যদের মাধ্যমে আলীকদম, লামা এবং থানচির অত্যন্ত দুর্গম সীমান্ত পথ ব্যবহার করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে আসা হয়।

রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি সীমান্ত: ভারতের ত্রিপুরা ও মিজোরাম থেকে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক সীমান্ত রেখা হয়ে লংগদুতে অস্ত্র সরবরাহ করা হয়। এ ছাড়া খাগড়াছড়ির রামগড় ও গুইমারা এলাকা এবং মিজোরামের বগাপাড়া, উজানিপাড়া, ভগবানটিলা ও নুনছড়ি সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র চোরাচালান হয়।

যেভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় নেটওয়ার্ক
জানা গেছে, ইউপিডিএফ (প্রসীত) এর চিফ কালেক্টর ও সশস্ত্র বিভাগের সমন্বয়ক আর্কিড চাকমা বর্তমানে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিভিন্ন দুর্গম জোনে বসে এই পুরো নেটওয়ার্ক সমন্বয় করছেন। সীমান্তের ওপার থেকে ফেরারি নেতা এবং নিজস্ব সশস্ত্র ক্যাডারদের মাধ্যমে অস্ত্র এনে খাগড়াছড়ির রূপসেন পাড়া, ছনখোলা ও বাবুপাড়ায় মজুদ করা হয়। পরবর্তীতে, ঊর্ধ্বতন মহলের নির্দেশে তা বিভিন্ন সাব-ডিভিশনে পাঠানো হয়। শুধু তাই নয়, ত্রুটিযুক্ত অস্ত্রগুলো মেরামতের জন্য পুনরায় মিজোরামে পাঠানো হয় এবং নতুন রিক্রুটদের ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে মিজোরামের গোপন ক্যাম্পে প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হয়, যারা প্রশিক্ষণ শেষে নতুন অস্ত্রসহ দেশে ফেরে।

উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের অস্ত্র সংগ্রহের এই খবর কোনো গোপন বিষয় নয়। জেএসএস ও ইউপিডিএফ এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ভারত থেকে অস্ত্র সংগ্রহের এই চালান মাঝেমধ্যেই স্থানীয় বিরোধের শিকার হয়ে এবং লেনদেনের বনিবনা না হওয়ায় উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ, আসাম রাইফেলস ও সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক আটক হয়ে থাকে। ভারতীয় গণমাধ্যম হয়ে সেসব খবর বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলোতেও নিয়মিত প্রচারিত হয়।

সমান্তরাল অর্থনীতি, জোরপূর্বক চাঁদা আদায় ও নাগরিক জিম্মিদশা
এই বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে পাহাড়ে চলছে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি। রাঙামাটির সাজেক, কাউখালী, বরকল, কাপ্তাই এবং খাগড়াছড়ির বিভিন্ন উপজেলায় সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদার, ব্যবসায়ী, যানবাহন সমিতি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত বাধ্যতামূলক চাঁদা আদায় করা হয়। চাঁদা দিতে দেরি হলে বা অস্বীকৃতি জানালে অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন এমনকি হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে নিত্যদিন। প্রতিটি পাহাড়ি পরিবারকে মাসিক ভিত্তিতে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়, যা কারবারী, হেডম্যান ও মেম্বারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

আন্তর্জাতিক প্রচার ও ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ
পার্বত্য চট্টগ্রামের এই অস্থিতিশীলতা কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়, এটি সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র চোরাচালানকারী সিন্ডিকেটগুলোর সাথে মিয়ানমার ও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী দলগুলোর এই যোগাযোগ আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার না হলে এবং ভারতের অভ্যন্তরে থাকা এই মোস্ট ওয়ান্টেড অপরাধীদের দ্রুত হস্তান্তর করা না হলে, এই পার্বত্যাঞ্চল অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক অস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের একটি স্থায়ী করিডোরে পরিণত হতে পারে। এটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য প্রচণ্ড হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। তাই চলমান বিজিবি ও বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের তরফে বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভারতের কাছে তুলে ধরার জন্য জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

Exit mobile version