ওয়াশিংটনে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার তিন দিনব্যাপী উচ্চপর্যায়ের বাণিজ্য আলোচনা। গত বুধবার প্রথম দিনের অধিবেশন চলে টানা পাঁচ ঘণ্টা। আলোচনায় উঠে আসে কৃষি, বাণিজ্য, জ্বালানি, মেধাস্বত্ব, বিমা ও আর্থিক খাতসহ প্রায় সব প্রধান ইস্যু। তবে কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপ, যা নিয়ে এখনো কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি।
৮ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো সেই চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ১ আগস্ট থেকে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে বিদ্যমান শুল্ক ছাড়াও ৩৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে চলা ‘স্থায়ী বৈষম্য’ তারা মেনে নেবে না। তবে চিঠিতে শর্ত সাপেক্ষে আলোচনার সুযোগ রাখার কথাও বলা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওই চিঠির প্রেক্ষাপটে দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনায় বসেছে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধিদলে রয়েছেন বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ও অতিরিক্ত সচিব ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী। ঢাকায় বসে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। আর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অংশ নিয়েছেন কৃষি, জ্বালানি, মেধাস্বত্ব ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক বিভাগের প্রতিনিধিরা।
আলোচনার প্রথম দিন শেষে দুই পক্ষই সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যান। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মর্তুজা। ফেসবুকে দেওয়া পৃথক পোস্টে তাঁরা জানান, বেশ কয়েকটি বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে, তবে শুল্ক ছাড় পাওয়ার প্রসঙ্গ নিয়ে এখনই মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
ফাওজুল কবির তাঁর পোস্টে বলেন, ‘সহকর্মী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে কথা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সব সেক্টরের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। তাঁরা তাঁদের উদ্বেগ জানিয়েছেন, আমরাও বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছি। বেশ কিছু বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে মতৈক্য এসেছে। তবে শুল্ক ইস্যুতে মন্তব্য করার সময় আসেনি।’ একইভাবে গোলাম মর্তুজা লেখেন, ‘যুক্তি-তর্কে অধিকাংশ বিষয়ে দুই পক্ষ একমত হলেও শুল্ক নিয়ে কোনো ঘোষণা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না।’
