কক্সবাজারের ঈদগাঁও এলাকা মিয়ানমারের গরু পাচারের একটি ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে। সীমান্ত থেকে নিয়ে আসা গরু ঈদগাঁওয়ের একটি অবৈধ আড়তে তোলার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাচার করা হচ্ছে।
এমনই একটি অনুমোদনহীন গরুর আড়তে গরু নেয়ার পথে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে আনা ১০টি গরু এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পিকআপ ভ্যানসহ সিরাজুল ইসলাম (২৫) নামে এক চালককে আটক করেছে।
সোমবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঈদগাঁওয়ের মেহেরঘোনা এলাকা থেকে গরু ও গাড়িসহ চালককে আটক করা হয়।
জানা গেছে, গরুবাহী পিকআপটি ঈদগাঁও গরুর বাজার এলাকায় রমজান ও রেজাউল করিম সিকদারের অবৈধ আড়তে যাচ্ছিল। গ্রেফতারকৃত চালক সিরাজুল ইসলাম (২৫) রামু উপজেলার কাউয়ারখোপ এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় আরও দুই অজ্ঞাতনামা আসামি পলাতক রয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদারের নির্দেশনায় এসআই অচিন্ত কুমার দে’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মহাসড়কে চেকপোস্ট বসায়। এ সময় রামু পানিরছড়া বাজারের দিক থেকে আসা একটি সন্দেহভাজন পিকআপ থামিয়ে চালক সিরাজুল ইসলামকে আটক করা হয় এবং অবৈধভাবে আনা ১০টি গরু উদ্ধার করা হয়। তবে এ সময় দুই পাচারকারী পালিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে চালক সিরাজ বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই মিয়ানমার সীমান্ত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে গরুগুলো ঈদগাঁও গরুর বাজারে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ঈদগাঁও গরুর বাজার এলাকার একটি ইটভাটার পাশে অনুমোদন ছাড়া স্থাপিত গরুর আড়তে আরও শতাধিক মিয়ানমারের গরু মজুত রয়েছে। জব্দ করা গরুগুলোও ওই আড়তে নেয়া হচ্ছিল। তবে আড়তের মালিক রমজানুল আলম ফোন রিসিভ না করায় এ বিষয়ে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
ঈদগাঁও থানার ওসি এটিএম শিফাতুল মাজদার বলেন, গ্রেফতারকৃত ও পলাতক অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
