parbattanews

কক্সবাজার সৈকতের অবৈধ দখল ঠেকাতে ফের সরব বেলা, আইনি নোটিশ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ি সহ প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার দখল উৎসব ঠেকাতে আইনী নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা।
৮ কর্মকর্তা বরাববে সোমবার এই নোটিশটি ডাক যোগে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেলার আইনজীবী জাকিয়া সুলতানা।

নোটিশে বলা হয়, এই গেজেট অনুযায়ী সৈকতের বেলাভূমিতে স্থাপনা নিষিদ্ধ। কিন্তু আইন না মেনে দীর্ঘদিন ধরে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকায় ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সৈকতের জোয়ার-ভাটার মধ্যবর্তী লাইন থেকে প্রথম ৩০০ মিটার ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোন’ উল্লেখ করে এ এলাকায় কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে নির্দেশনা দেয় উচ্চ আদালত।

৮ কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো ‘নোটিশ অব ডিমান্ড ফর জাস্টিস’ বিষয়ের নোটিশটিতে হাইকোর্টে দায়ের করা ২০১১ সালের ৭ জুনে মামলার (নম্বর ৬২৬/২০১১) রায় বাস্তবায়নের তাগিদ দেয়া হয়েছে। নোটিশ পাঠানো ৮ কর্মকর্তা হলেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রনালয়ের সচিব, বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, কক্সবাজার পুলিশ সুপার, পরিবেশ অধিদপ্তর, কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক।

নোটিশটিতে বলা হয়, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত তার অপরূপ সৌন্দর্য ও বিরল প্রজাতির প্রাণবৈচিত্রের জন্য বিশ্বখ্যাত। বিচিত্র প্রজাতির কচ্ছপ ও লাল কাঁকড়া এ সমুদ্র সৈকতের অন্যতম আকর্ষণ। পরিবেশগত তাৎপর্য বিবেচনায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে টেকনাফ সমুদ্র সৈকতের ১০ হাজার ৪৬৫ হেক্টর এলাকার প্রাণবৈচিত্র্য, নির্মল জলরাশি এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষার জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে এ এলাকাকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করে যেখানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংসকারী সকল কার্যক্রম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ সংক্রান্ত বিষয়ে বেলার মামলার প্রেক্ষিতে রায় থাকলেও কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ি দখল করে সম্প্রতি দেড় শতাধিক দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। আর এসব দোকান নির্মাণে জেলা প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে বলে সংবাদে প্রকাশ হয়েছে। সমুদ্র সৈকতের ১০০ মিটারের মধ্যে বালিয়াড়ি দখল করে এসব দোকান স্থাপন করা হয়েছে। পরিবেশ অধিনগুনের বরাত দিয়ে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে যে সমুদ্র সৈকতের লাবনী, সুভাজা ও কলাতনী পয়েন্টে বালিয়াড়ি দখল করে ২০০টি স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। যা সমুদ্র সংবেদনশীল পরিবেশ ও প্রতিবেশ ব্যবস্থাকে হুমকি।

Exit mobile version