parbattanews

করোনার প্রভাবে মাটিরাঙায় বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৪/৫’শ টাকা

‘কারও পৌষ মাস, কারও সর্বনাশ’ এমন ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায়। প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে মোকাবেলায় সরকার যখন ব্যস্ত, ঠিক তখনই মাটিরাঙ্গায় হঠাৎ করেই বেড়েছে চালের দাম। কোন ধরনের কারন ছাড়াই হঠাৎ চালের এমন অস্বাভাবিক মুল্য বৃদ্ধিতে শঙ্কিত সাধারণ মানুষ।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরেরর পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টায় চালের (৫০ কেজির) বস্তায় দাম বেড়েছে ৪/৫’ টাকা। তবে কেন বা কি কারণে চালের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ খুঁজে পাচ্ছেনা সাধারণ মানুষ।

সরেজমিনে মাটিরাঙ্গা বাজারে ঘুরে দেখা গেছে, বস্তাপ্রতি চালের দাম বেড়েছে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। সাধারণ মানুষ চাল কিনতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। সাধারণ ক্রেতারা এমন অভিযোগ করলেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, পাইকাররা চালের দাম বেশি নিচ্ছেন বলে তারা বেশি দামে বিক্রি করছেন। প্রশ্ন উঠেছে একদিনে চালের বাজারে এমন কি ঘটলো যে বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) ৪/৫শ টাকা দাম বেড়ে গেল।

মাটিরাঙ্গা ঔষধ ব্যবসায়ী মো. তানভীর হোসেন বলেন, একদিন আগে বা সকালে (৫০ কেজি) চালের বস্তার দাম ছিল ১৬৩০ টাকা, সন্ধ্যায় সেই চাল ২০০০ বা ২২০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। করোনা নিয়ে দেশের মানুষ যখন ভয়ের মধ্যে আছে, সে সুযোগে চাল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

দেশে কি এমন ঘটেছে জানতে চেয়ে এক স্কুল শিক্ষক বলেন, চালের বাজারে এসে মাথা ঘুরে যাচ্ছে। হঠাৎ চালের দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ বিপদে পড়বে। করোনা ভাইরাসে মানুষের পাশে দাঁড়ানো তো দূরের কথা উল্টো চাল ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চালের দাম বাড়িয়ে মানুষের পকেট কাটতে শুরু করেছে।

সাবেক এক জনপ্রতিনিধি ব্যবসায়ীদের এমন আচরনকে দেশবিরোধী বলে মন্তব্য করে বলেন, দেশের মানুষ যখন করোনা ভাইরাসের কারণে শঙ্কিত-আতঙ্কিত তখন তারা সে সুযোগকে কাজে লাগিয়ে চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এভাবে যদি চালের দাম বাড়তে থাকে তাহলে মানুষকে অনাহারে দিন কাটাতে হবে। চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া জরুরি বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিভীষণ কান্তি দাশ ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট করার কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে বলেন, চালের বাজার নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যদি চাল মজুত রাখার চেষ্টা করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Exit mobile version