নিজস্ব প্রতিনিধি:
দু’শ গজের মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা থাকার পরও নতুন করে মাদ্রাসা নির্মাণের অজুহাত দিয়ে কাউখালীতে পাহাড় কেটে উজাড় করছেন অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারী কর্মকর্তা। পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের আইন থাকলেও প্রয়োগ নাই। রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক, কাউখালীর ইউএনও ও কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)র কাছ থেকে মৌখিক নির্দেশ পেয়ে পাহাড় কাটার কাজে হাত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাঙ্গামাটির সাবেক অবসরপ্রাপ্ত এ্যাসিসটেন্ট স্যাটেলমেন্ট অফিসার (সহকারী ভূমি কর্মকর্তা) মোঃ শফি উল্লাহ। কাউখালী উপজেলার বেতছড়ি এলাকায় স্থানীয় সাংবাদিকরা পাহাড় কাটার ছবি তুলতে গেলে তিনি পাহাড় কাটায় যারা বাঁধা দেয় তাদেরকে শয়তানের সমতুল্য বলে আখ্যা দেন।
সরেজমিন গিয়ে ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মোঃ শফি উল্লাহ ১৯৮৩-৮৪ সালে রাঙ্গামাটির সহকারী ভূমি কর্মকর্তা থাকাকালীন কাউখালীর বেতছড়ি গ্রামে জালিয়াতির মাধ্যমে পাঁচ একর সত্তর শতক (চৌদ্দ কানি) পাহাড় ক্রয় করেন। ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে এ জমি নিজের আয়ত্বে নিতে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে মামলায় জড়িয়ে পড়েন। যা এখনো উচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ক্ষমতাধর সাবেক এই ভূমি কর্তার কাউখালী ছাড়াও ঢাকার উত্তরায় ৫তলা বাড়ী, কুষ্টিয়া শহরে মায়ের আচল নামে ৫তলা বাড়ী, নোয়াখালী সদরে রয়েছে বিশাল শপিংমল।
বিতর্কিত জায়গায় গত ১৩ এপ্রিল (রবিবার) সকাল থেকে এসকেভেটর(মাটি কাটার যন্ত্র)’র মাধ্যমে পাহাড় কাটা। উপজেলা সদর থেকে এক কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে বেতছড়ির ঘনবসতিপূর্ণ জায়গায় এমন পাহাড় নিধনযজ্ঞ দেখতে অনেক মানুষ জড়ো হয়। পরে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে কাউখালী থানার এস.আই গৌতমের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে পাহাড় কাটা বন্ধ করে দেয় এবং এসকেভেটর(মাটি কাটার যন্ত্র)আটক ও পাহাড়ের মালিক শফি উল্লাহকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন।
এ সময় শফিউল্লাহ পুলিশকে জানান, এলাকার মানুষের সুবিধার্থে মাদ্রাসা নির্মাণ করার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের মৌখিক নির্দেশে পাহাড় কাটা হচ্ছে। একই স্থানে পাহাড় কাটার দায়ে ২০১৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু দাউদ মোঃ গোলাম মোস্তফা ত্রিশ হাজার টাকা জরিমানা করেন বলে স্বীকার করেন অভিযুক্ত শফিউল্লাহ।
বেতছড়ি এলাকার বাসিন্দা বিএনপি নেতা মোঃ মহিউদ্দিনের কাছে মাদ্রাসা নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিতর্কিত স্থান থেকে দু’শ গজের মধ্যে মসজিদ ও দাখিল মাদ্রাসা রয়েছে। এখানকার মানুষকে বোকা বানিয়ে মাদ্রাসা নির্মাণের নাম করে পাহাড় দখলের পাঁতারা করছে শফিউল্লাহ। সে একজন ভূমিদস্যু, জালিয়াতি ও ভূমি অফিসের প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে এসব জমি তার নামে রেকর্ডভূক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ পাহাড় নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলাও চলছে।
স্থানীয় আওয়ালীলীগ নেতা মোঃ ইব্রাহীম জানান, শফিউল্লাহ একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। ভূমি অফিসে চাকুরীকালীন সময়ে সীমাহীন দূর্নীতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার মালিক বনেছেন। যে পাহাড় ক্রয় করেছে বলে সে দাবী করছে সেটি নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলছে। সে বিভিন্ন সময় বখাটে ভাড়াটে লোক দিয়ে আমাকে মারার জন্য চেষ্টাও চালায়।
বিষয়টির ব্যাপারে কথা হয় অভিযুক্ত শফিউল্লাহর সাথে, তিনি বলেন, একজন অবসরপ্রাপ্ত সহকারী ভূমি কর্মকর্তা হিসেবে’জেলা প্রশাসক আমার প্রতি সহনুভূতিশীল হতেই পারেন। এতে দোষের কিছু দেখছি না। তিনি আরো জানান, রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক, কাউখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওসিকে জানিয়ে পাহাড় কাটার কাজ শুরু করা হয়েছে। এখন যেহেতু পুলিশ আমাকে বাঁধা দিয়েছে আমি সাময়িক কাজ বন্ধ রেখেছি। তবে যে কোন মূল্যে আমি কাজ পূণরায় শুরু করবো এতে কোন সন্দেহ নেই।
কাউখালী থানার অফিসার ইনচার্জ নিলু কান্তি বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন জানান, শফিউল্লাহকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে লিখিত কোন অনুমতি আছে কিনা জানাতে চাওয়া হলে সে জেলা প্রশাসকের মৌখিক অনুমতির কথা জানায়। পরে তাকে একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে সম্মান জানিয়ে মৌখিকভাবে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে এবং পাহাড় কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
