ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে পরবর্তী অমাবস্যা ও পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ারে সাগরের লোনা পানি ঢুকবে লোকালয়ে।
ঘূর্ণিঝড় রেমালে ৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জিও ব্যাগ ছিঁড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে বেড়িবাঁধের ভিতরে থাকা বসতঘরে ঢুকে পরে পানি। আলী আকবর ডেইল তেলীপাড়া, কাইছার পাড়া, পন্ডিত পাড়া, কিরণ পাড়া, কাজিপড়া বায়ু-বিদ্যুৎ এলাকা, হকদার পাড়া, উত্তর ধুরুং কাইছার পাড়া, দক্ষিণ ধুরুং বাতিঘর পাড়া, কৈয়ারবিল-বিন্দাপাড়ার পশ্চিমে ও ঘিলাছড়ির উত্তর পাশে বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের তথ্য নিয়েই দায় সেরেছে। কবে নাগাদ সংস্কার কাজ শুরু হবে তা জানা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা কামাল হোসেন, আতিক উল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগে থেকেই জোয়ারের ধাক্কায় জিওব্যাগ দেয়া বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। গত সপ্তাহে ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ ছিঁড়ে ও টপকিয়ে সাগরের ঢেউ আঁচড়ে পড়ে পার্শ্ববর্তী বাড়িগুলোতে। কাচা –ঘরবাড়ি সহ বিনষ্ট হয় বিভিন্ন চাষের ক্ষেত। আগামী অমাবস্যার আগে জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত না হলে ব্যাপক ক্ষতি হবে বলে তারা জানান।
নব নির্বাচিত উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আকবর খান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আলী আকবর ডেইলের বেড়িবাঁধ তিনি পরিদর্শন করেছেন। বেশ কয়েকটি জায়গায় ব্যাপক ভাঙনের কবলে পড়েছে বাঁধ। স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেছেন। স্বাভাবিক জোয়ারেই সাগরের পানি বাঁধ টপকে যেতে পারে। ফলে আগামী অমাবস্যা ও ভরা পূর্ণিমার অস্বাভাবিক জোয়ার ঠেকাতে জরুরী ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এলটন চাকমা বলেন, আলী আকবর ডেইল, দক্ষিণ ধুরুং, কৈয়ারবিলে ক্ষতি বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছেন। জরুরী বরাদ্ধ পেলে সংস্কার কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মঈনুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের অগ্রগতি জানতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলীকে ডাকা হয়েছিল। বিস্তারিত তাকে অবহিত করা হয়েছে। আসন্ন অতিরিক্ত জোয়ারের আগেই যেন বাঁধ মেরামত করা হয় সেজন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে।
