parbattanews

কুতুবদিয়ায় ৪ স্থাপনায় পরিবর্তন

সাবেক সরকার পতনের পরই দেশ জুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া কুতুবদিয়াতেও লেগেছে। উপজেলার অন্তত ৪টি স্থাপনায় নতুন ভাবে সাইনবোর্ড উঠেছে। গত ৫ আগস্ট বিকালেই বঙ্গবন্ধুর নামের ২টি স্থাপনায় ভাঙচুর করে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা।

দক্ষিণ ধুরুং আকবর শাহ রোডে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জালাল আহমদ নিজ অর্থায়নে বঙ্গবন্ধু গেইট নির্মাণ করেছিলেন বছর দুয়েক আগে। স্থানীয় ব্যবসায়ী মীর কাশেম বলেন,সরকার পতনের পরদিনই নাম পরিবর্তন করে পর দিন আকবর শাহ রোড নামকরণ করে ফেলে ছাত্ররা।

উপজেলা সদরে প্রায় ৬ বছর আগে পরিত্যক্ত টেলিগ্রাফ অফিস দখল করে তৈরী করা হয় বঙ্গবন্ধু পাঠাগার। উপজেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি শফিউল আলম কুতুবীর নেতৃত্বে এটি প্রতিষ্ঠা করেছেন। এটিও ভাঙচুর করে “ আবু সাঈদ পাঠাগার” সাইনবোর্ড তুলে দেন ছাত্ররা। টিএন্ডটি‘র সাবেক কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর ফারুকী বলেন, প্রায় ৬/৭ বছর আগে পরিত্যক্ত অফিসটি দখল করে বঙ্গবন্ধু পাঠাগার নির্মাণ করা হয়। এসময় তিনি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও তা রোধ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিশাল বাজেটের শেখ রাসেল অডিটরিয়ামের নামফলক অপসারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

অপরদিকে উপজেলা সদরে পশু হাসপাতালের সামনে উপজেলা জামায়াতের অফিসে সাইনবোর্ড উঠছে ১০ বছর পর। ২০১৪ সালে মাওলানা সাঈদীকে মানবতাবিরোধী মামলায় ফাঁসির আদেশ দেয়া হলে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে পরদিন ১ মার্চ উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা জামায়াতের অফিসটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিভিন্ন ইসলামি বইপত্র জ্বালিয়ে দেয়।

কুতুবদিয়া উপজেলা জামায়াতের সভাপতি আ.স.ম শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, তৎসময়ে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা অফিসটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত করার পর তারা সেখানে গোডাউন হিসেবে অন্যকে দিতে চাইলে বাধা দেয়া হয়। এমনকি সেখানে একটি ফোরকানিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করতেও দেয়া হয়নি। মামলা, জেল, জুলুম কিছুই বাদ যায়নি জামায়াতের কর্মীদের ওপর থেকে। বাধ্য হয়ে আওয়ামীলীগের দখল থেকে বাঁচতে সেখানে পার্শ্ববর্তী একজনকে গরু পালনের অনুমতি দেন। শেষ পর্যন্ত জালিম সরকারের পতনের পর তারা আবার একই ভবনে উপজেলা জামায়াতের অফিস হিসেবে নিয়মিত ব্যবহার করছেন বলে জানান তিনি।

Exit mobile version