কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার সদর উপজেলার কুতবদিয়াপাড়ারস্থ ফডনার ডেইল এলাকার চিহ্নিত মানব পাচারকারী ও ইয়াবা ব্যবসায়ী কালা মিয়া সিন্ডিকেট আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার শক্তিশালী সিন্ডিকেট মালয়েশিয়া, মায়ানমার ও থাইল্যান্ডসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আদমপাচার ও দেদারসে ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে এলাকার উঠতি যুবক ও শিক্ষার্থীরা মাদকের আগ্রাসনে পড়ে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
জানা যায়, কক্সবাজার সদর উপজেলার উপকুলীয় সমুদ্র পথ খুরুস্কুল ঘাটে গতবছরের ২৯ নভেম্বর ইয়াবা ব্যবসায়ী কালা মিয়ার পুত্র জামাল হোসেন (৪০) কে হাতেনাতে ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে একটি ফিশিং ট্রলারসহ আটক করে র্যাব। উক্ত ট্রলার রোহিংগা রশিদ মাঝির বলে স্বীকার করে এবং এই ট্রলার দিয়ে রোহিংগা রশিদ মাঝি সরাসরি মালয়েশিয়ায় আদমপাচার করে।
অপরদিকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করেন তার চাচাত ভাই আহমদ হাকিমের পুত্র লোকমান ও নুর আহমদের পুত্র নজির আহমদ একই এলাকার ফজল করিমের ছেলে আবদুর রহিমকেও আটক করেছিলেন একসাথে। কিন্তু টাকার প্রভাব কাটিয়ে কিছুদিন পর জেল থেকে বের হয়ে আসে। আসার পর এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সিন্ডিকেট মিলে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠে। জামালসহ আপন দু-ভাই মাতাম হাসিম মালয়েশিয়ায় ও জুবাইর থাইল্যান্ড থেকে নানাভাবে আদম পাচারের যাবতীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বাবা কালামিয়া ও তার দুই ছেলে হাসিম ও রুবেল বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আদম সংগ্রহ করে থাইল্যান্ড হয়ে জুবাইয়ের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় হাসিমের কাছে পাচার করে।
অন্যদিকে, ৩০ হাজার ইয়াবা নিয়ে আটক হওয়া কালা মিয়ার ছেলে জামাল তার আপন দুইভাই হাসিম, রুবেল, ও একই এলাকার মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র বদরুদ্দিন, নুর উদ্দিন, শফিউল আলম, সোনা মিয়া ও বার্মাইয়া ইউনুছ। তাদের নামে কক্সবাজার সদর থানায় একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন পত্রিকায় এবং অনলাইন পত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। তারপরেও কেন এই চিহ্নিত শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে আদম পাচার ও ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে তা এলাকার সচেতনমহলকে ভাবিয়ে তুলেছে।
এ কারণে মানব পাচারকারী এসব দালাল, চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীর কারণে সমাজে আজ অস্থিরতা বিরাজ করছে। সচেতন মহলের দাবি, এসব মানব পাচারকারী দালাল, চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ী কালা মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আটক করলে সবধরনের তথ্য উপাত্ত বের হয়ে আসবে বলে এলাকাবাসীরা জানান। এ ব্যাপারে সদর মডেল থানার ওসি জানান, তাদের আটকের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।