খাগড়াছড়িতে টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ফের জলাবদ্ধতা ও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে সহস্রাধিক পরিবার। অবস্থার উন্নতি নেই বরং অবনতি হচ্ছে এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে দীঘিনালা উপজেলার অবস্থা নাজুক পরিস্থিতি। মাইনী নদীর পানি বেড়ে তীরবর্তী নিচু এলাকায় পানি ঢুকেছে।
উপজেলার কবাখালী ও মেরুংয়ের কয়েকটি স্থানে পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় দীঘিনালা-সাজেক-লংগদুর সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাজেকে আটকা পড়েছে ৪শ’৬১ জন পর্যটক।
এছাড়া, বাসা বাড়িতে পানি ঢুকছে। কয়েকটি এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে দূর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।
পানি ঢুকে পড়ায় দীঘিনালা ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র সংযোগ বন্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, মেহেদীবাগ, গঞ্জপাড়া এলাকার একাংশ, বটতলী, পেরাছড়া, লার্মাপাড়া, দ্রোণাচার্য পাড়ায় ফের জলাবদ্ধতা ও কয়েকশত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা জুড়ে ইতিমধ্যে ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। আকস্মিক বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় শতাধিক পরিবার এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন।
পাহাড়ের ঢাল ও নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে।
দুযোর্গপূর্ণ এই সময়ে দুর্গত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার পক্ষ থেকে দলীয় নেতাকর্মী এবং প্রশাসনের উদ্যোগে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার প্রধান প্রধান নদী- চেঙ্গী, মাইনী ও ফেনী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এছাড়া জেলা শহরের নেন্সিবাজার, মোল্লাাপাড়া, কলাবাগান, কৈবল্যপিঠ, আঠার পরিবার, শালবন ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় প্রায় সহস্রাধিক পরিবার চরম পাহাড় ধসের ঝুঁকি নিয়ে দিন পার করছেন।
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। জেলা জুড়ে খোলা ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে দুর্গতদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
