মো. আবুল কাশেম, খাগড়াছড়ি ॥
খাগড়াছড়ি জেলা সদরের টাউনহল সংলগ্ন এলাকায় যুবলীগ নেতার নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ভেঙ্গে পড়ে মুকুল ফার্মেসীর মালিক-জুলফিকার আলম মুকুল (৫০), পিতা-খোরশেদ আলম, নামক এক পল্লী লেখক-চিকিৎসকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আজ (বুধবার) বিকাল সাড়ে ৪টায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, প্রতিদিনের মত বিকালে সে তার দোকান ঝাড়ু দেওয়ার সময় পাশ্ববর্তী বিল্ডিংয়ে কাজ চলছিল। হঠাৎ ৩০-৪০ ফুট দৈর্ঘ্য একটি রেলিং ভেঙ্গে গায়ের উপর পড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকও তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিল্ডিং ভেঙ্গে পড়ে পল্লী চিকিৎসকের মৃত্যুর বিষয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, নির্মাণাধীন বিল্ডিংটি জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর আহাম্মেদ এর মালিকানাধীন। পুরানো বিল্ডিং ভাঙ্গার সময় রেলিংটি ভেঙ্গে পড়ে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে মামলা প্রস্তুতি চলছে বলে তিনি জানান।
পল্লী চিকিৎসক মুকুলের মৃত্যুর খবর জেলা সদরে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং তার মৃতদেহ দেখতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ পেশাজীবি, প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয়রা হাসপাতালে ছুটে যান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসার পাশাপাশি তিনি অবসরে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে কলাম লিখতেন। লেখালেখির মাধ্যেমেই তিনি খাগড়াছড়ি জেলায় এক জনপ্রিয় মুখ ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই কন্যা সন্তান রেখে গেছেন।
এদিকে খাগড়াছড়ির সুপরিচিত লেখক জুলফিকার আলম মকুলের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ ও দোষীদের শাস্তি দাবী করেছে অনলাইন এক্টিভিস্ট ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মেহেদী হাসান পলাশ ও সদস্য সচিব সৈয়দ ইবনে রহমত এক বিবৃতিতে বলেন, বিশিষ্ট লেখক ডা. মো. জুলফিকার আলম মুকুল শুধুমাত্র একজন ভাল মানুষই ছিলেন না, ববং পার্বত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষার লড়াইয়ে একজন বীর কলম সৈনিক ছিলেন। তিনি বাঙালীদের অধিকার আদায় এবং এ অঞ্চলের দেশের স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌমত্ব বক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে পারবত্য চট্টগ্রামের অখণ্ডতা রক্ষার আন্দোলনে যে অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়েছে, তা সহজে পূরণ হবার নয়। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, যাদের গাফলতির কারণে আমরা আজ পারবত্য চট্টগ্রামের এই কৃতি সন্তানকে হারিয়েছি তদন্তের মাধ্যমে তাদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি মরহুমের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপুরণের জোর দাবী জানিয়ে বলা হয়, এ ক্ষেত্রে সাভারের রানা প্লাজা ধসের ক্ষতি পুরণের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করা যেতে পারে।
