parbattanews

খাগড়াছড়িতে গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপির নেতাকর্মীরা : ১২ মামলায় আসামী সহস্রাধিক

Capture

মুজিবুর রহমান ভুইয়া :

বর্তমান সরকারের বিগত পাঁচ বছরের শাসনামল ও বর্তমান শাসনামলের প্রথম এক বছর রাজনীতির মাঠে সরব থাকা দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি হঠাৎ করেই ৫ জানুয়ারী‘র কর্মসূচিকে পালনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘাত-সহিংসতায় যেন রাজনীতির মাঠ থেকে ছিটকে পড়েছে। নেতাকর্মী শুন্য হয়ে পড়েছে বিএনপি অধ্যুষিত খাগড়াছড়ির বিভিন্ন জনপদ। পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে শাসকদলের হামলা আর পুলিশী গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

৫ জানুয়ারীকে ঘিরে সুষ্ট সংঘর্ষের জের ধরে পুলিশের ৯টিসহ ১২ মামলায় জেলা বিএনপির শীর্ষনেতাসহ আসামী করা হয়েছে সহস্্রাধিক নেতাকর্মীকে। ফলে গ্রেফতার আতঙ্কে চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠে থাকতে পারছেনা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন সকলেই।

৫ জানুয়ারী‘র ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে দু‘দফায় বিএনপির অন্তত: ছয় শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। আর গত সোমবার খাগড়াছড়ি সদর থানার উপ-পরিদর্শক আবদুল্লাহ আল-মোমেন বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত, মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: তাজুল ইসলাম তাজু ও রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যান মো: শহীদুল ইসলাম ভুইয়া ফরহাদসহ ৮০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও আড়াই‘শ নেতাকর্মীর নামে মামলা করেন।

এর একদিন পর গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরীসহ বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করে খাগড়াছড়ি সদর থানায় অপর একটি মামলা করেন খাগড়াছড়ি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মংসাপ্রæ মারমা।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র আবু ইউসুফ চৌধুরী অভিযোগ করেছেন, সরকারী দলের পক্ষ থেকে শুধু মিথ্যা মামলা দায়ের করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা বিএনপি‘র নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িঘরে চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে। হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়ে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

মামলা ও হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তিনি বিএনপির নেতাকর্মীদের বাসা-বাড়িতে চোরাগোপ্তা হামলা বন্ধসহ সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারেরও দাবি জানান। তিনি বলেন, মিথ্যা মামলা আর চোরাগোপ্তা হামলা করে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানী করা যাবে আন্দোলন থেকে ফেরানো যাবেনা।

খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগ‘র সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো. জাহেদুল আলম বিএনপির মিথ্যা মামলা আর চোরাগোপ্তা হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৫ জানুয়ারী বিনা উস্কানীতে সরকারী দলের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় বিএনপির চিহ্নিত ক্যাডাররা। আর এ ঘটনায় আওয়ামলীগের সাত নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ৫ জানুয়ারী‘র ঘটনার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রমাণ এবং আলামতের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়েছে। অভিযুক্ত ছাড়া অন্য কারও বাসা-বাড়িতে পুলিশি তল্লাশির ঘটনাকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেও অভিহিত করেন তিনি।

Exit mobile version