
নিজস্ব প্রতিবেদক, খাগড়াছড়ি:
খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলমসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে প্রত্যাহার করা না হলে ৭ আগস্ট মানববন্ধনসহ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীদের সকল কর্মসূচি প্রতিহত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বিকালে বিক্ষোভ মিছিল উত্তর পৌর শাপলা চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে আয়োজিত অপর অংশের সমাবেশ থেকে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, গত পৌর নির্বাচনের পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি জেলায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করে জেলা পরিষদে ভুয়া প্রকল্প ও নিয়োগে নামে সম্পদের পাহাড় বানিয়েছে।
জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সুরুজ মিয়ার উপর হামলা প্রতিবাদে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীদের বিক্ষোভ মিছিল, সাংবাদিক সম্মেলন, মামলা দায়ের ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্বারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণার পর অপর অংশের পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, তার ছোট ভাইজেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম, তার বড় ভাই খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধের দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টার কলেজ সড়কস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে জেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পৌর শাপলা চত্বরে জেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজ, সাংগঠনিক সম্পাদক হৃদয় মারমা, পানছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের, জেলা শ্রমিক লীগের সহ-সভাপতি দিদারুল আলম দিদার।
গত মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি শহরের গঞ্জপাড়ায় সন্ত্রাসীরা জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুরুজ মিয়াকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীরা মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকদের দায়ী করে বিক্ষোভ মিছিল ও সাংবাদিক সম্মেলন করে। সাংবাদিক সম্মেলন থেকে মেয়র রফিকুল আলম ও তার অনুসারীদের গ্রেফতারের দাবিতে আগামী ৬ আগস্ট(রবিবার) প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্বারকলিপি দেওয়া কর্মসূচির ঘোষণা করে।
এদিকে সুরুজ মিয়ার উপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক জানু সিকদার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। মামলায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, তার ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ ১২জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, দাবিকৃত এক লাখ চাঁদার টাকা না না দেওয়া গত ১ লা আগস্ট শোক র্যালি থেকে ফেরার পথে আসামীরা জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সুরুজ মিয়াকে হত্যার উদ্দ্যেশে এলোপাথারি কুপিয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে ফেলে যায়।
অপর দিকে জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক সুরুজ মিয়ার উপর হামলা প্রতিবাদে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীদের বিক্ষোভ মিছিল, সাংবাদিক সম্মেলন, মামলা দায়ের ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্বারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি ঘোষণার পর অপর অংশের পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়ে। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে গত দুই বছরে অন্তত অর্ধশতাধিক বার হামলা-পাল্টা হামলার মামলার ঘটনা ঘটে।