parbattanews

গরুর গোশত সস্তার প্রোটিন, নিষিদ্ধ হওয়া উচিত নয়: বিচারপতি কাটজু

342a3933cda2d9819cf0e2aed93299da_XL
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশে যখন গরু জবাই নিষিদ্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে, তখন তার বিরোধিতা করলেন সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু। গরু জবাই নিষিদ্ধ করা নিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘আমি নিষিদ্ধ হওয়ার সম্পূর্ণ বিরোধী।’

বিচারপতি মার্কন্ডেয় কাটজু যুক্তি দেখিয়ে বলেছেন, ‘আমি গরুর গোশত খাওয়ার মধ্যে কোনো ভুল কিছু দেখি না। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে গরুর গোশত খাওয়া হয়, তারা কি সব খারাপ মানুষ?’

তিনি বলেছেন, ‘গরুর গোশতে সস্তায় প্রোটিন পাওয়া যায়। ভারতের বহু মানুষ বিশেষ করে নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, ত্রিপুরা, কেরালাসহ কয়েকটি রাজ্যের অনেক মানুষ গরুর গোশত খেয়ে থাকেন। এসব জায়গায় গোশত বিক্রি নিষিদ্ধ নয়।’

তিনি বলেছেন, ‘আমি কয়েকবার গরুর গোশত খেয়েছি। যদিও আমি তা সাধারণত খাই না বিশেষকরে আমার স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন এবং অন্যান্য রক্ষণশীল হিন্দুদের সম্মানার্থে। কিন্তু যদি কোনো অনুষ্ঠানে খওয়ার সুযোগ আসে তাহলে আমি আবার খাব।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘আমি অন্যদেরকে গরুর গোশত খেতে বাধ্য করছি না। তাহলে কেন অন্যরা আমাকে এ নিয়ে নিষেধ করবে? একটি মুক্ত গণতান্ত্রিক দেশে প্রত্যেকের খাওয়ার স্বাধীনতা রয়েছে।’

বিচারপতি কাটজু’র মতে, গরুর গোশত নিষিদ্ধ করা হলে অনগ্রসর, সামন্ততান্ত্রিক মনোভাব দেখানোর জন্য বিশ্বে আমাদের উপহাসের পাত্র হতে হবে। মহারাষ্ট্রে গরু জবাই নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘কিছু মানুষ বলে থাকেন, গরু জবাই, নরহত্যার মতই বিষয়, তাদের যুক্তি খুব অর্থহীন। কী করে একটি পশু ও মানুষ সমান হতে পারে?’

তিনি গরু জবাই নিষিদ্ধ করাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। ডানপন্থীরা এই নিষিদ্ধের পেছনে থাকলেও এতে দেশের কোনো স্বার্থ নেই বলেও তিনি সাফ জানিয়েছেন।

সম্প্রতি, জৈন সাধু সন্তদের এক সভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, ‘সারা দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য ঐক্যমত্য গড়ে তোলার জন্য চেষ্টা করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে গরু জবাই বন্ধে কড়া আইন আছে। মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গরু জবাই বন্ধে আইন তৈরি করেছে। আমরা এ সংক্রান্ত বিলকে অনুমোদনের জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে পাঠাতে এক মুহূর্তও দেরী করিনি।’-আইআরআইবি।

Exit mobile version