parbattanews

‘গর্জনিয়ার শীর্ষ ডাকাত শাহীন গ্রেফতারে খুশি হলেও অর্ধলাখ মানুষ আতঙ্কে’

আন্ত:উপজেলার শীর্ষ ডাকাত রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের মাঝিরকাটার কুখ্যাত শাহীনুর রহমান ওরফে শাহীন ডাকাতকে র‌্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতারে এলাকাবাসী খুশি হয়েছে। তার গ্রেফতারের খবরে গর্জনিয়ার মাঝিরকাটা, টাইমবাজার, পূর্ববোমাংখিলসহ বিভিন্ন গ্রামে মিষ্টি বিতরণও করা হয়েছে। তবে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ছয় ইউনিয়নের অর্ধলাখ মানুষ এখনো আতঙ্কে রয়েছে।

কারণ হিসেবে স্থানীয়রা বলছে, ডাকাত শাহীনের বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার আছে। সে গ্রেফতার হলেও তার সেকেন্ড ইন কমান্ড লেদা পুতুসহ অসংখ্য সহযোগী এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছে। ডাকাত শাহীনের কাছে একে-৪৭ রাইফেলসহ ভারী অস্ত্রশস্ত্র ছিলো।

গর্জনিয়ার পূর্ববোমাংখিল গ্রামের সাহাব উদ্দিন জানান, গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দলবলসহ ভারী অস্ত্র উঁচিয়ে সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো ডাকাত শাহীন। নাইক্ষ্যংছড়ির রাবার বাগান মালিকরা ডাকাত শাহীনকে নিয়মিত চাঁদা না দিলে অস্ত্র ঠেকিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিত। এখন সেসব অস্ত্র উদ্ধার করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।

গর্জনিয়ার ইউপি সদস্য মনিরুল আলম তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় গত ১২ জানুয়ারি শাহিন ডাকাত গ্যাং তাকে মারাত্নকভাবে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়।
এর আগে গর্জনিয়ার মইন্যাকাটার ছুরুত আলম ও টাইমবাজারের আব্দুল হামিদকে মারধর এবং ব্যাপক নির্যাতন করে শাহীন ডাকাত গ্যাং। ছুরুত আলমকে জাহেলিযুগীয় কায়দায় বেঁধে তার টর্চার সেলে নিয়ে গিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ারও অভিযোগ আছে।

গত ১৮ জানুয়ারি রাত নয়টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আন্ত:উপজেলার কুখ্যাত শাহীন ডাকাত ও তার একজন সহযোগীকে বান্দরবান জেলার সদর থানাধীন মেঘলা এলাকা থেকে র‌্যাব-১৫ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের পরের দিন ১৯ জানুয়ারি র‌্যাব-১৫ এর উপঅধিনায়ক মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ইতিপূর্বেও শাহীন ডাকাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে একাধিকবার গ্রেফতার হয়েছিল। তাকে গ্রেফতারের দাবিতে এলাকার সচেতন মহল সম্প্রতি একটি মানববন্ধন করেছিল। তার অপকর্মের ভয়ে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ির ছয় ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলাখ মানুষ জিম্মি হয়েছিল। তার অপকর্মের বিষয়গুলি বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি দায়েরকৃত একটি নিয়মিত মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতারের নিমিত্তে আমরা গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করি। গ্রেফতার এড়ানোর লক্ষ্যে সে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন এলাকায় পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।

গ্রেফতারকৃত আসামি শাহীন আন্ত:উপজেলার একজন শীর্ষ ডাকাত। ডাকাতি, মাদক, গরু চোরাকারবারিদের সহযোগীতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত এই শাহীন ডাকাত। সে প্রায়শই রাতের বেলায় রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় দলবলসহ সশস্ত্র মহড়া দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতো। গত ১২ জানুয়ারি গর্জনিয়ার ইউপি সদস্য মনিরুল আলম তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় শাহিন ডাকাত গ্যাং তাকে মারাত্নকভাবে পিটিয়ে দুই পা ভেঙ্গে দেয়। গত কয়েকদিন ধরে এই চক্রটির ডাকাতি ও অপহরণের ভয়ে স্থানীয়রা এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিত।

মেজর সৈয়দ সাদিকুল হক আরও জানান, গ্রেফতারকৃত শাহীন ডাকাতের বিরুদ্ধে রামু ও নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় ৫টি ডাকাতি, ৩টি অস্ত্র, ১টি মাদক, ৪টি হত্যা চেষ্টার মামলা রয়েছে এবং সে একাধিক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি।

Exit mobile version