কক্সবাজারের চকরিয়া থানা হাজতে গলায় ফাঁস লাগিয়ে দুর্জয় চৌধুরী (২৫) নামে চকরিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় প্রধান শিক্ষিকা (ভারপ্রাপ্ত) রাবেয়া খানমকে ওএসডি করা হয়েছে। রোববার ২৪ আগস্ট দুপুরে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-১ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ওএসডি করা হয়।
এছাড়া এক অফিস আদেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালককে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক মতামত ও প্রমানসহ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
গত ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতে প্রধান শিক্ষিকার দেয়া অভিযোগের ঘটনায় চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারি দুর্জয় চৌধুরীকে চেক জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসােেতর ঘটনায় থানা হেফাজতে রাখা হয়।
ওইদিন রাতে থানা হাজতে পরণের শার্ট গ্রীলে বেঁধে নিজের গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে দুর্জয় চৌধুরী। পরদিন ২২ আগস্ট শুক্রবার সকালে থানা হাজতে তার লাশ উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুপায়ন দেব এর উপস্থিতিতে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে মর্গে পাঠানো হয়।
এদিকে স্কুলের অফিস সহকারি দুর্জয় চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনা রহস্যজনক দাবি করে ঘটনার দিন চকরিয়া পৌরশহরে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে এ ঘটনার সুষ্টু তদন্ত করে বিচার দাবি করে। এরই প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলামকে বদলি এবং কর্তব্য অবহেলার দায়ে থানার এএসআই হানিফ মিয়া ও দুই পুলিশ কনস্টেবল ইশরাত হোসেন ও মহিউদ্দিনকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফুদ্দিন শাহীন।
অপরদিকে এ ঘটনায় কক্সবাজার জেলা পুলিশের পক্ষথেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে জেলা পুলিশ সুপার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও জেলা পুলিশের মুখপাত্র জসিম উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে চকরিয়া সার্কেল এএসপি অভিজিৎ দাশ ও চকরিয়া আদালতের কোর্ট পরিদর্শক মো. আনোয়ার উল ইসলামকে সদস্য করে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে দুর্জয় চৌধুরীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে জানিয়েছেন চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ।
