সংঘাতকালে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সফল জবাব দিতে পাকিস্তান যে অনেকটাই চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল, তা এখন স্পষ্ট। মূলত, চীনা প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান ব্যবহার করেই পাকিস্তান ভারতের তিনটি রাফাল যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া, ভারতের আরও তিনটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানও ধ্বংস হয়েছে।
চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেই ভারতের ক্ষেপণাস্ত্রের গুদামে সফল হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে তারা। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই চীনা ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর পাকিস্তানের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ জুন) ঘোষিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পাকিস্তান তাদের প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ এক লাফে ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। নতুন অর্থবছরে দেশটির মোট বাজেটের পরিমাণ ৬২ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ২৯ বিলিয়ন ডলারই আবার ব্যয় হবে ঋণ পরিশোধে।
প্রকৃত ব্যয়যোগ্য বাকি ৩৩ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৯ বিলিয়ন ডলারই রাখা হয়েছে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের জন্য। আর এই ৯ বিলিয়ন ডলারের প্রায় পুরোটাই পাকিস্তান ব্যয় করবে চীনা প্রযুক্তিতে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, চীন থেকে এইচকিউ-১৯ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বেশ কিছু অস্ত্র কিনবে পাকিস্তান, যা মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মূলত ভারতের সঙ্গে ১৯ দিনের ভয়াবহ সংঘাত থেকে পাওয়া শিক্ষাই পাকিস্তানকে প্রতিরক্ষা খাতকে এমন গুরুত্ব দিতে বাধ্য করল। দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সঙ্গে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষই প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির অনুঘটক।
ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার বিষয়টি জনসমর্থনও পাচ্ছে, যা পাকিস্তান সরকারকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার রাজনৈতিক সুযোগ দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে আঘাত হানতে সক্ষম হচ্ছে ভারত। এই দুর্বলতা দূর করতে বিমান প্রতিরক্ষা খাতে বাজেটের বড় অংশ ব্যয় করবে পাকিস্তান সরকার।”
