parbattanews

চীনের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস, মাটির নিচে চাপা পড়েছেন অন্তত ১৬ জন

ছবি সংগৃহীত।

চীনের পশ্চিমাঞ্চলীয় কানসু প্রদেশের একটি পাহাড়ি এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ১৬ জন মাটির নিচে চাপা পড়েছেন। একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান তীব্র বজ্রঝড় ও দুর্যোগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং অন্তত ২৭৫ জন আহত হয়েছেন।

চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) জানানো হয়েছে, ভূমিধসের ঘটনায় শুরুতে মোট ৩৩ জন আটকা পড়েছিলেন। উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। বাকি অন্তত ১৬ জনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

দুর্যোগের পর প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্ধারে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন ও জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ভূমিধসের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও, চলতি সপ্তাহজুড়ে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়া আঘাত হেনেছে। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতে মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশের পূর্বাংশে আকস্মিক বজ্রঝড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন এবং একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

এছাড়া হুবেই প্রদেশের হুয়াংশি, হুয়াংগাং, এঝৌ ও শিয়াননিং শহরের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৪৯ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এসব দুর্যোগে অন্তত ২৭৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদেরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের বসবাসকারী এসব এলাকায় নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের গুয়াংশি এবং পূর্বাঞ্চলের জিয়াংসু ও শানডং প্রদেশে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় টর্নেডোরও আশঙ্কা রয়েছে।

এরই মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে আসা সুপার টাইফুন ‘বাভি’কে ঘিরেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গুয়াম, টিনিয়ান, সাইপান ও রোটা দ্বীপপুঞ্জ অতিক্রম করার সময় ঘূর্ণিঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ২৯০ কিলোমিটার।

সূত্র: আল জাজিরা

Exit mobile version