সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, পাকিস্তান বিমান বাহিনী নাকি ইতোমধ্যেই চীনের জে-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমানের প্রথম ব্যাচ গ্রহণ করেছে। তবে দেশটির প্রতিরক্ষা সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো এই দাবিকে স্পষ্টভাবে গুজব বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসলামাবাদভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অফ ইসলামাবাদ জানায়, ২০২৬ সালের মার্চের শেষ দিকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও পোস্টগুলোর পক্ষে কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, বাস্তব ছবি বা বিমানঘাঁটির কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদিও আঞ্চলিক কিছু গণমাধ্যম শুরুতে যাচাই ছাড়াই দ্রুত সরবরাহের খবর প্রচার করেছিল, পরে তারা নিজেরাই নিশ্চিত করে যে পাকিস্তান বিমান বাহিনী বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এমন কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
এর আগেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ ধরনের গুঞ্জনকে শুধুমাত্র গণমাধ্যমের জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, জে-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহের সর্বোচ্চ আশাবাদী সময়সীমাও ২০২৭ সাল। যদিও কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল ২০২৬ সালের শুরু থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে সীমিত সংখ্যক বিমান সরবরাহ হতে পারে, পরবর্তী সরকারি ইঙ্গিতগুলো সেই সম্ভাবনাকে আরও পিছিয়ে দিয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ দিকে চীনের সামরিক বাহিনীর জন্য জে-৩৫ সীমিত আকারে তাদের দেশে প্রবেশ করায়। ফলে রপ্তানি সরবরাহে সময় লাগা স্বাভাবিক।
২০২৫ সালের জুনে বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর পাকিস্তান সর্বোচ্চ ৪০টি জে-৩৫এ রপ্তানি সংস্করণ কেনার জন্য একটি নীতিগত কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পাকিস্তান হবে এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের প্রথম বিদেশি ক্রেতা।
বর্তমানে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে রয়েছে ৭৬টি এফ-১৬ ১৮০টির বেশি জেএফ-১৭ থান্ডার জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ।
এছাড়া জানা গেছে, নির্বাচিত পাইলটদের চীনে প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, তবে তা এখনো সিমুলেটর ও গ্রাউন্ড ট্রেনিং পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। স্যাটেলাইট ছবি এবং বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণ তথ্যেও এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে জে-৩৫ মোতায়েন বা গ্রহণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোর বেশিরভাগই সম্পাদিত। অনেক ক্ষেত্রে আসল জে-৩৫-এর ছবি বা ভিডিওর সঙ্গে অন্য বিমানের (যেমন এফ-৩৫) ফুটেজ জুড়ে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে। এসব পোস্ট কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লক্ষাধিক ভিউ পেয়েছে, যদিও কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য ছিল না।
জে-৩৫ অন্তর্ভুক্ত হলে পাকিস্তান প্রথমবারের মতো প্রকৃত স্টেলথ সক্ষমতা অর্জন করবে, যা আধুনিক বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দ্রুত ফাঁকি দেওয়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। এতে দূরপাল্লার পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সক্ষমতাও থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্ল্যাটফর্ম আঞ্চলিক সামরিক ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে ভারতের রাফাল ও এস-৪০০ ব্যবস্থার প্রেক্ষাপটে।
পাকিস্তানের জে-৩৫ যুদ্ধবিমান পাওয়ার বিষয়টি এখনো পরিকল্পনা ও প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। ২০২৬ সালে সরবরাহের দাবিগুলো ভিত্তিহীন গুজব বলেই প্রমাণিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এ ধরনের তথ্যকে সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
উৎস; দ্য টাইমস অফ ইসলামাবাদ
