‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে পহেলা বৈশাখ ও বাংলা নববর্ষের শুভক্ষণে সারা দেশের ন্যায় সীমান্ত উপজেলা টেকনাফেও আনুষ্ঠানিকভাবে স্মার্ট কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টেকনাফ সরকারি এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের শুভ সূচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ১১টি উপজেলায় এই ডিজিটাল কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
টেকনাফে কৃষি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া উদ্বোধন করেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোট ১৬৯৮ জন কৃষক ও কৃষাণীকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পুরুষ ১৪৬৩ জন এবং মহিলা ২৩৫ জন। পেশাভিত্তিক হিসেবে এখানে ১৬৮৩ জন শস্যচাষি, ১০ জন প্রাণিসম্পদ খাতের, ২ জন মৎস্য খাতের এবং ৫ জন লবণচাষি কার্ড পেয়েছেন।
কৃষকদের ভূমির মালিকানা অনুযায়ী পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, কার্ড পাওয়া কৃষকদের মধ্যে প্রান্তিক কৃষকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা প্রায় ১১০৬ জন। এছাড়া ১২৪ জন ভূমিহীন, ৪২২ জন ক্ষুদ্র, ৪৪ জন মাঝারি এবং ২ জন বড় কৃষক এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী কৃষি ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে আজ প্রথম ধাপে টেকনাফ উপজেলার ১৬৯৮ জন কৃষকের মাঝে কৃষি কার্ড বিতরণ করা হয়। এই কর্মসূচির আওতায় টেকনাফ উপজেলার সকল কৃষককে পর্যায়ক্রমে কৃষি কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে আনলে আমরা পরিবেশকে বাঁচাতে পারব। দ্রুতই খাল খননের কাজ শুরু করব। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতিশ্রুতি রাখে। সকল কাজ আমরা নাগরিকদের কল্যাণে শুরু করব। তিনি বলেন, এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো। এর ফলে প্রকৃত কৃষকরা সরাসরি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা, ঋণ ও সার-বীজের প্রণোদনা পাবেন, যা কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।
মানবপাচার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে সকল পয়েন্টে মানবপাচার হয় সেসব পয়েন্টে জিরো টলারেন্স নীতিকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শীঘ্রই কঠোর অভিযান শুরু করবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আপনারা সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন।
এর আগে স্থলবন্দর পরিদর্শন করে তিনি বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর পূর্বে টেকনাফে চলমান মানবপাচার ও অপহরণ সংকট নিরসনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ কামনা করে টেকনাফবাসীর পক্ষে স্মারকলিপি দেন টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন।
টেকনাফ উপজেলা ওসিসির প্রোগ্রাম অফিসার নাশীদুল ইসলাম আলফারুকীর সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মোঃ মাহফুজুল্লাহ ফরিদ, ঢাকা খামারবাড়ির কৃষি অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইং-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. আমিরুল বাহরাইন, জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল মান্নান, জেলা পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, চট্টগ্রাম অঞ্চল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কক্সবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামাণিক, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ ইমামুল হাফিজ নাদিম, টেকনাফ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিব হাসান চৌধুরী, টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোঃ আব্দুল্লাহ, টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান জিহাদ প্রমুখ।
