টেকনাফ প্রতিনিধি:
টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকায় সদ্য পরলোকগত বদিউল আলমের কবরকে মাজার তৈরি করতে গেলে এলাকাবাসীর সাথে মাজার নির্মাণকারীদের বিরোধ দেখা দেয়। এতে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পরে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, বাঁশখালির বদিউল আলম জিহাদী নামে এক ফকিরের কবরকে মাইজভান্ডারী তরিকত এর অনুসারীরা মাজার তৈরি করতে যায়। এতে এলাকাবাসী বাধা প্রদান করলে মাইজভান্ডারী তরিকত অনুসারীদের সাথে তাদের উত্তেজনা তৈরি হয়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চান্দলীপাড়া ও মুন্ডার ডেইল ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, কবরস্থান সংলগ্ন খলিল সওদাগরের বসতভিটায় এলাকাবাসী এবং প্রশাসনের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই এলাকার কিছু স্বার্থান্বেষী লোক সদ্য পরলোকগত এবং বিতর্কিত সাধু জিহাদী বাবার মাজার নির্মাণের কাজ শুরু করেছিল।
মৃত বদিউল আলম জিহাদীর ছেলে রফিকুল আলম জিহাদী জানান, তার বাবা দীর্ঘকাল তরিকত ও সুন্নীয়ত প্রচারে টেকনাফে আসে। স্থানীয় ভক্তদের অনুরোধে খলিল সওদাগরের দানকৃত জমিতে মাজার স্থাপন করতে গেল বাধা দেওয়া হয়। সারাদেশে মাজার রয়েছে এখানে করলে সমস্যা কোথায়।
মাজার নির্মাণের খবর পেয়ে স্থানীয় আলেম সমাজ মুন্ডার ডেইল প্রাইমারী স্কুল মাঠে সোমবার বিকালে এক প্রতিবাদ সভা করেছে। এতে বক্তব্য রাখেন, ওলামা পরিষদ টেকনাফ উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মাও: মুজিবুর রহমান, সাবরাং বড় মাদ্রাসার মুহতামিম মাও: নুর আহমদ, সাবরাং ওলামা পরিষদের সভাপতি মাও: হোছাইন আহমদ, কাটাবনিয়া এমদাদুল উলুম মাদ্রাসার মুহতামিম মাও: মনির আহমদ, সাবরাং মাদ্রাসার শিক্ষক মাও: মো: ইসহাক।
এছাড়া ইউপি সদস্য মো: ইউনুছ, সাবরাং মাদ্রাসার সহকারী পরিচালক মাও: আমির হোছাইন, মাও: তৈয়ুব, মাও: সব্বির আহমদ, মাও: নুর হোছাইন ও আমান উল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বলেন, ‘মাজার নির্মাণ করা ও সিজদা করা ইসলাম কখনো সমর্থন করে না। যে কোন মূল্যে নির্মাণকারীদের প্রতিহত করা হবে।’
টেকনাফ মডেল থানার ওসি কবির হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অবস্থা পর্যালোচনা করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
