parbattanews

ট্রাম্পের অভিবাসন ও যুদ্ধনীতির প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে গণবিক্ষোভ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ব্যানারে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। অভিবাসন নীতি, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিসহ নানা ইস্যুতে এই আন্দোলন গড়ে উঠেছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে আয়োজকদের বরাত দিয়ে বলা হয়, ৫০টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ হাজার ২০০টিরও বেশি কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরগুলোতে বড় সমাবেশ হলেও, মোট কর্মসূচির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অনুষ্ঠিত হয়েছে শহরের বাইরের এলাকাগুলোতে। গত জুনে প্রথম সমাবেশের তুলনায় ছোট শহর ও সম্প্রদায়ে অংশগ্রহণ প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন দেশে এক ধরনের কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। তাদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতার উৎস জনগণ—কোনো ‘রাজা’ বা তার ধনী সহযোগী নয়। আন্দোলনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, এর কোনো একক বা নির্দিষ্ট দাবি নেই; বরং বিভিন্ন ইস্যুতে ছড়িয়ে থাকা অসন্তোষই এই প্ল্যাটফর্মে একত্র হয়েছে। প্রচারপত্র ও বার্তায় অভিবাসন অভিযান, নির্বাচনী হস্তক্ষেপ, হোয়াইট হাউসের ব্যয়, ইউক্রেন ইস্যু এবং সাশ্রয়ী আবাসনের মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জানুয়ারিতে মিনেসোটায় আয়োজিত একটি বড় সমাবেশে ফেডারেল অভিবাসন অভিযানে নিহত দুই মার্কিন নাগরিকের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। সেন্ট পলের স্টেট ক্যাপিটলের সামনে হাজারো মানুষ জড়ো হয়। সেখানে সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন ‘স্ট্রিটস অফ মিনিয়াপোলিস’ শিরোনামের একটি গান পরিবেশন করেন।

গত বছর পুনরায় হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প একাধিক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়িয়েছেন বলে সমালোচকরা দাবি করছেন। বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নরদের আপত্তি উপেক্ষা করে কিছু শহরে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ট্রাম্প বলেছেন, সংকট থেকে দেশকে পুনর্গঠনের জন্যই তিনি এসব পদক্ষেপ নিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, তাকে ‘রাজা’ বলা হলেও তিনি নিজেকে তেমন মনে করেন না।

অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস এই বিক্ষোভকে ‘বামপন্থি অর্থায়নকারী নেটওয়ার্কের’ প্রভাব হিসেবে উল্লেখ করে বলেছে, এর পেছনে সাধারণ জনগণের প্রকৃত সমর্থন নেই।

Exit mobile version