বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও বিশিষ্টজনদের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। এতে রয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, সাবেক এমপি এ কে এম রহমত উল্লাহ, দবিরুল ইসলাম, এ বি এম আনোয়ারুল হক ও মোসলেম উদ্দিনের নাম।
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীতে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার চার শিশুর মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করে সংসদ। রোববার ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের প্রথম দিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরে তা সরকারি ও বিরোধী দলের সমর্থনে সংসদে গৃহীত হয়। প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন সংসদ সদস্যরা। পরে মোনাজাত করেন সংসদ সদস্য এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান।
এদিন বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা, অধ্যাপক এম এ মান্নান, সাবেক এমপি দেওয়ান শামসুল আবেদীন, জি এম ফজলুল হক, জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি সৈয়দ মো. কায়সার, আবু নূর মোহাম্মদ বাহাউল হক ও গোলাম সারোয়ার মিলন এবং সিপিবির সাবেক এমপি মো. সামসুদ্দোহার মৃত্যুতে শোক জানানো হয়। আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী শফিক আহমেদ এবং দশম সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবদুল মতিনের মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ করে সংসদ।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের স্ত্রী অধ্যাপক দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে সংসদ। শোক প্রস্তাবে জাতীয় অধ্যাপক সুফিয়া আহমেদ, কবি হেলাল হাফিজ, ছায়ানটের সভাপতি সনজীদা খাতুন, সংগীতশিল্পী মুস্তাফা জামান আব্বাসী, লেখক বদরুদ্দীন উমর, নজরুল সংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা আব্দুল কুদ্দুস, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেনের মা বেগম জেবুন্নেছা, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিউল বারী বাবু, সংঘরাজ ড. জ্ঞানশ্রী মহাস্থবির এবং সাংবাদিক গাজী রুহুল আমিনেরও নাম রয়েছে।
তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে গৃহীত শোক প্রস্তাবে বলা হয়, ‘বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী তোফায়েল আহমেদ উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। ছাত্ররাজনীতির সঙ্গেও তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন।’
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্টের অঞ্চলভিত্তিক দায়িত্বপ্রাপ্ত চার প্রধানের একজন ছিলেন তোফায়েল আহমেদ। পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।’
শোক প্রস্তাবে বলা হয়, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদের মৃত্যুতে দেশ একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সমাজসেবককে হারাল। এ সংসদ তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ, বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা প্রকাশ করছে।’ শোক প্রস্তাবের অনুলিপি তোফায়েল আহমেদের পরিবারকে পাঠানো হবে।
