parbattanews

দীপ্তি চাকমার ‘অর্নামেন্টস অব ধনপুদি’ পাহাড়ের অনুপ্রেরণার গল্প

খাগড়াছড়ির তরুণ নারী উদ্যোক্তা দীপ্তি চাকমা পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী অলংকার নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করছেন। শুরুটা অনলাইন ব্যবসা দিয়ে হলেও এখন তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন নিজের একটি দৃষ্টিনন্দন শো-রুম। দৃঢ় আত্মবিশ্বাস আর অদম্য সাহসের উপর ভর করে নিজের এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিচ্ছেন সামনের দিকে। নিজের ভাগ্যের পরিবর্তনের পাশাপাশি অনেক তরুণীর কাছে হয়ে উঠেছেন তিনি অনুপ্রেরণার গল্প।

জানা যায়, রাঙামাটি জেলার কুতুকছড়ি ইউনিয়নের বাদলছড়ি এলাকার বাসিন্দা সতীশ চন্দ্র চাকমা ও শিখা চাকমা দম্পতির তিন সন্তানের মধ্যে বড় মেয়ে দীপ্তি চাকমা। শৈশব ও কৈশোর কেটেছে রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে। ছোটবেলা থেকেই সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্যে বেড়ে ওঠায় পাহাড়ি ঐতিহ্য, পোশাক ও অলংকারের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়। বর্তমানে ব্যবসার প্রয়োজনে তিনি পরিবারসহ খাগড়াছড়ি জেলা সদরে বসবাস করছেন।

নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তোলার ইচ্ছা থেকেই উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দীপ্তি চাকমা। এই ভাবনা থেকেই ২০১৭ সালের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অর্নামেন্টস অব ধনপুদি নামে পাহাড়ি নারীদের ঐতিহ্যবাহী অলংকারের অনলাইন ব্যবসা শুরু করেন তিনি। শুরুটা ছিল ছোট পরিসরে। ধীরে ধীরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পণ্যের ছবি ও প্রচারণা মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করে। ক্রেতারা অনলাইনের মাধ্যমে অর্ডার দিয়ে এসব অলংকার সংগ্রহ করতে থাকেন।

দীপ্তি চাকমার ব্যবসায় রয়েছে পাহাড়ি নারীদের বহুল ব্যবহৃত নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী অলংকার। তার সংগ্রহে রয়েছে আলছড়া, আজুলি, হুজি হারু ঠেং হারু, বাজু, কয়েন মালা নেকলেস, টিকলি আংটি, চুড়ি। এসব অলংকার শুধু বিয়ের অনুষ্ঠানেই নয়, বরং বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পাহাড়ি নারীদের সাজে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

অনলাইনে ব্যবসা শুরু করার পর ক্রেতাদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়তে থাকে। অনেক ক্রেতা সরাসরি এসে পণ্য দেখার আগ্রহ প্রকাশ করতে থাকেন। ক্রেতাদের সেই চাহিদার কথা বিবেচনা করেই তিনি অফলাইনে একটি শো-রুম খোলার পরিকল্পনা করেন। অবশেষে ২০২৪ সালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানখাইয়া রোডের জামতলা এলাকায় অর্নামেন্টস অব ধনপুদি নামে একটি শো-রুম চালু করেন।

Exit mobile version