parbattanews

দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের হতাশা প্রকাশ করে যা বললেন সুরা কৃষ্ণ চাকমা

সুরা কৃষ্ণ চাকমা। ছবি ফেসবুক থেকে সংগৃহীত।

২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার বক্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক বেল্ট জয়ের কৃতিত্ব গড়া রাঙ্গামাটির সুরা কৃষ্ণ চাকমা। দেশের হয়ে সুনাম বয়ে আনা পাহাড়ি এই যুবক এখনো সরকার মনোনীত স্পোর্টস কার্ড তালিকায় জায়গা পাননি। ১০টি পেশাদার লড়াইয়ে ৮টি জয়ের রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও  সুরা কৃষ্ণ চাকমার মতে, যেসব ক্রীড়াবিদ কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করছে না।

আজ এক দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে নিজের সোনালী অর্জন আর হতাশা প্রকাশ করে সুরা কৃষ্ণ বলেন, ‘অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে আমি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সরকার মনোনীত স্পোর্টস কার্ডের তালিকায় নিজের নাম দেখতে পাইনি। আমাদের মতো কম প্রতিনিধিত্বশীল খেলাগুলোর জন্য এই স্পোর্টস কার্ড সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।’

২০১৫ সালে রিও অলিম্পিক স্কলারশিপের জন্য মনোনীত হলেও আজ পর্যন্ত সেই স্কলারশিপের অর্থ পাননি। একই বছরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কোচ আলী জেকো লন্ডনে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য ট্রায়াল নিতে এলে, সারা দেশের জাতীয় বক্সারদের মধ্যে প্রথম হয়ে নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু ফেডারেশনের সঙ্গে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের কারণে সেই সুযোগ বাধাগ্রস্ত হয়।

পরবর্তীতে আলী জেকোর ব্যক্তিগত উদ্যোগে লন্ডনে গিয়ে পাঁচ মাস উচ্চমানের প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে এসে জানতে পারেন, তাকে ফেডারেশন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী হয় প্রায় দুই বছর। এসময় তিনি থেমে না থেকে পাড়ি জমান ভারতে, যেখানে প্রফেশনাল বক্সিং ক্যারিয়ার শুরু করেন। ২০১৮ সালে হরিয়ানায় ছয় মাস প্রশিক্ষণ শেষে দুটি প্রফেশনাল বাউটে অংশ নিয়ে দুটিতেই জয়লাভ করেন।

একই বছর ফেডারেশনে নতুন নেতৃত্ব আসার পর আবার জাতীয় দলে সুযোগ পান। ট্রায়ালের মাধ্যমে দলে জায়গা করে নিয়ে ২০১৯ সালে নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত সাফ গেমসে অংশগ্রহণ করেন এবং ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।

পরবর্তীতে ২০২০ ও ২০২১ সালে আবারও বাংলাদেশ গেমস ও জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে ২০২২ সালের বার্মিংহাম কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। এরপর ২০২২ সাল থেকে পুরোপুরি প্রফেশনাল বক্সিংয়ে মনোযোগ দেন।

২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রথম প্রফেশনাল বক্সার হিসেবে আন্তর্জাতিক বেল্ট জয়ের গৌরব অর্জন করেন তিনি। এখন পর্যন্ত ১০টি আন্তর্জাতিক প্রফেশনাল লড়াইয়ের মধ্যে ৮টিতে জয় পেয়েছেন। তার লক্ষ্য—প্রফেশনাল বক্সিংয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করা।

তবে এত অর্জনের পরও সরকারি ক্রীড়া কার্ড তালিকায় নিজের নাম না দেখে হতাশ তিনি। তার মতে, পিছিয়ে থাকা খেলাগুলোর খেলোয়াড়দের জন্য ক্রীড়া কার্ড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এখনও অনেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা বছরের পর বছর দেশের জন্য লড়ে গেলেও এই স্বীকৃতি পাননি।

Exit mobile version