দীর্ঘ ১৪ বছর পর অবশেষে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে জয় পেল বায়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে স্প্যানিশ জায়ান্টদের ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে জার্মান ক্লাবটি।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বল দখলে তুলনামূলক এগিয়ে ছিল বায়ার্ন। তারা ৫২ শতাংশ সময় বল নিয়ন্ত্রণে রাখে, যেখানে রিয়ালের দখলে ছিল ৪৮ শতাংশ। আক্রমণেও এগিয়ে ছিল বাভারিয়ানরা—২৩টি শটের মধ্যে ৪টি ছিল লক্ষ্যে, যার দুটিই গোল হয়ে যায়। অন্যদিকে রিয়াল মোট ৩১টি শট নিলেও অনটার্গেটে ছিল ১০টি, কিন্তু গোল করতে পেরেছে মাত্র একটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বায়ার্ন। তবে প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় গোলের দেখা না পেলেও ৪১তম মিনিটে এগিয়ে যায় তারা। সার্জে গ্যানাব্রির পাস থেকে লুইস দিয়াজ গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। এই ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় বায়ার্ন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হ্যারি কেন। মাইকেল অলিসের ব্যাক-পাস থেকে বক্সের কোণা থেকে দারুণ শটে গোল করেন ইংলিশ এই স্ট্রাইকার। এটি চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে কেনের ৪৯তম এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১তম গোল।
গোল হজমের পর রিয়াল ম্যাচে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। তবে তাদের একাধিক আক্রমণ ঠেকিয়ে দেন বায়ার্ন গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ার। এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয় তার দৃঢ়তায়। শেষ পর্যন্ত ৭৪তম মিনিটে ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের নিখুঁত ক্রস থেকে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল করে ব্যবধান কমান। কিন্তু এরপর আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বায়ার্ন।
ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও পুরো ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন হ্যারি কেন। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমরা আজ দারুণ খেলেছি। ফিনিশিং আরও ভালো হতে পারত, তবে জয় পেয়ে আমি খুশি।”
