দেশের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবার অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। যা মোট জনসংখ্যার এক পঞ্চমাংশ। বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) জরিপ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ৪০ শতাংশ দরিদ্র পরিবার। তিনি আরো বলছেন যে, মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সকলের জন্য প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ।
পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মূল্যস্ফীতি বা জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি সকলের জন্য প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের কারণ। অনেকের আয় কমে যাওয়া মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। উচ্চবিত্তদের আয়ের ক্ষেত্রেও কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া অনেক উদ্যোক্তা পুঁজির অভাব (ক্যাপিটাল শর্টেজ) অনুভব করছেন। অন্যদিকে, উচ্চবিত্তদের জন্য ঋণ পরিশোধ (লোন রিপেমেন্ট) দ্বিতীয় প্রধান উদ্বেগের স্থান দখল করেছে। আর তৃতীয় উদ্বেগ হলো খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ৪০ শতাংশ দরিদ্র পরিবার।
গত ২০২৪ সালের মে মাস থেকে ২০২৫ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে এ সংকটে পেছনের মূল কারণগুলো রয়েছে- চিকিৎসার ব্যয়ভার বৃদ্ধি, ঋণ পরিশোধের চাপ, শিক্ষা খাত এবং খাদ্যের ব্যয় বৃদ্ধি। এছাড়া দেশের ৭ শতাংশ পরিবার জাতীয় প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং ২ থেকে ২ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবার পুলিশ ও আদালত সংক্রান্ত জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) জরিপে এই চিত্র উঠে এসেছে। গতকাল সোমবার রাতে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিত ‘পরিবার পর্যায়ে মনস্তাত্ত্বিক অবস্থান’ শীর্ষক এক আলোচনায় সংস্থাটির সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফল তুলে ধরা হয়। গত মে মাসে দেশের ৮ হাজার ৬৭টি খানার মধ্যে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান।
জরিপে বলা হয়, সমাজের নানা আর্থিক, রাজনৈতিক ও পারিবারিক উদ্বেগের কারণে প্রায় ৪৬ শতাংশ মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে আশা হারিয়েছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ। ঘুষ আগের চেয়ে কমলেও হয়রানির শিকার মানুষেরা বলছেন, ৭৪ শতাংশ ক্ষেত্রে টাকা ছাড়া কিছু হয় না। জরিপের পারিবারিক মনস্তত্ত্ব অংশের ফলাফল তুলে ধরে বলা হয়, প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ আর্থিক সংকটের মধ্যে আছে। এদের মধ্যে ৬৭ শতাংশ চিকিৎসা ব্যয় এবং ২৭ শতাংশ ঋণ পরিশোধ নিয়ে সংকটে আছেন।
জরিপে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, আয় কমে যাওয়া এবং পুঁজির ঘাটতি এ তিনটি বিষয়কে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের প্রধান উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখা হয়েছে।
