parbattanews

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবের মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসব-আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে উদযাপিত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর।

আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনেও আনন্দ উৎসবে মিলিত হচ্ছে দেশের মানুষ। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে যাচ্ছেন রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্রে। আত্মীয়-স্বজনদের বাড়ি কিংবা দর্শনীয় স্থানে পরিবার পরিজন নিয়ে বেড়াতে যাচ্ছেন অনেকে। তবে সকাল থেকেই রাজধানীর সড়কে যানবাহন চলাচলের সংখ্যা খুবই কম। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়ক অনেক ফাঁকা। স্বল্প সংখ্যক অটো রিকশা, সিএনজি ও বাস চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর দোকান-পাট কিংবা বিপণী-বিতানগুলো বন্ধ দেখা গেছে।

পবিত্র রমজানের এক মাসের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত-বন্দেগির পর গতকাল শনিবার সকালে দেশের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। এ সময় বিশেষ মোনাজাতে দেশ-জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং সমৃদ্ধির জন্য দোয়া করা হয়।

ঈদের দিন দেশের অনেক জায়গায় বৃষ্টি হয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার মাঝেও ঈদগাঁওয়ে এসে নামাজ পড়েছেন মুসল্লিরা।

ঈদুল ফিতরকে ঘিরে শহর ও গ্রামে এখনো উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নতুন পোশাক পরে সবাই আনন্দে মেতে উঠেছে। পরিবার-পরিজনের সাথে চলছে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি।

পরিবার ও প্রিয়জনের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকে ফিরে গেছেন গ্রামে। এক কথায় রাজধানী ঢাকা এখন প্রায় ফাঁকা। এতে নতুন পোশাকে ঈদের নামাজ, মেহেদি উৎসব, সুস্বাদু খাবার এবং আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে যাতায়াত উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঈদ উপলক্ষে সরকারি হাসপাতাল, এতিমখানা, শিশু সদন, আশ্রয় কেন্দ্র ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে উন্নতমানের খাবার।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো: সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

এর আগে প্রতিবারের মতো এবারো রাজধানীতে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় ঈদগাহ মাঠে। শনিবার সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাতে অংশ নেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা।

জাতীয় ঈদগাহের জামাতের ইমামতি করেন- বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। নামাজ শেষে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শাান্তি এবং সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন। জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের ৫টি জামাত।

এ ছাড়াও দেশের প্রতিটি মসজিদ এবং ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের নামাজ। জামাত শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় মোনাজাত করা হয়। বিশ্বজুড়ে চলমান অস্থিরতা, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্যও দোয়া করেন মুসল্লিরা।

ঈদের নামাজ শেষে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সর্বস্তরের মানুষের সাথে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দেশবাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান তিনি।

Exit mobile version