দিঘীনালা সংবাদদাতা, পার্বত্যনিউজ:
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার আভ্যন্তরিক সড়কের এখন বেহাল দশা। উপজেলার স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন এসব সড়ক গুলো বেশকয়েক বছর ধরেই সংস্কার হচ্ছেনা। সংস্কার না হওয়ার ফলে এলাকার বেশকয়েকটি সড়কে যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী-জামতলী সড়কটি বোয়ালখালী খালের ভাঙনের কবলে পড়ে সড়কের একাংশ বিলীন হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন এই অবস্থায় পড়ে থাকলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। প্রতিবছর সড়ক সংস্কারের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হলেও প্রস্তাব পাশ না হওয়ায় সংস্কার কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এলজিইডি’র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত অনুদান পেলেই এসব সড়কের সংস্কার সম্ভব। সরেজমিন সড়ক সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, বোয়ালখালী পুরাতন বাজার থেকে জামতলী যাওয়ার প্রধান সড়কটি বোয়ালখালী খালের ভাঙনে একটি অংশ বিলিন হয়ে গেছে। এলাকাবাসি ও এলজিইডির কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০০৯-১০ অর্থবছরে গ্রামীন সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের আওতায় বোয়ালখালী বাজার- জামতলী সড়কটি ২০১০ সালের ৮ নভেম্বর ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৮০৫ টাকা প্রাক্কলিত বরাদ্দে বোয়ালখালী খালের ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করতে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। প্রকল্প অনুযায়ী সংস্কার কাজও শেষ হয়। কিন্তু কাজটি শেষ হয় ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর। কিন্তু সংস্কার কাজটি শেষ হওয়ার মাত্র এক মাসের মধ্যেই এর ধারক দেয়াল সহ সড়কের একটি অংশ খালের মধ্যে ধসে পড়ে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ(ইউপি) সদস্য দ্বিল মোহাম্মদ জানান, বর্ষা মৌসুমে চলাচলের জন্য এ সড়কটি ছাড়া চলাচলের আর কোন রাস্তা থাকে না। আর এ সড়ক দিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন যাওয়া আসা করে। সড়কটি বন্ধ হয়ে গেলে শিক্ষার্থীদের দূরের সড়ক দিয়ে ঘুরে আসতে হবে। এসব স্কুল এবং মাদ্রাসার কয়েকজন ছাত্রের মুখ থেকে জানা গেলো, সড়কের এই অংশটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে তাদের বিদ্যালয়ে এবং মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে অসুবিধার সৃষ্টি হবে।
এছাড়া, বোয়ালখালী পুরাতন বাজারে বেশকয়েকটি রাইস মিল রয়েছে। এই রাইস মিল গুলোর চালের গাড়ি এই পথেই যাতায়াত করে। সংস্কার না হলে রাইস মিল গুলো থেকে চাল পরিবহনের জন্য কোন গাড়ি যেতে পারবে না। তাই তারা দ্রুত এই সড়কের সংস্কার দাবি করে। এছাড়া উপজেলার, মধ্যবোয়ালখালী-অনাথ আশ্রম সড়কের দেড় কিলোমিটার রাস্তা, কবাখালি-তাড়াবুনিয়া সড়কের দুই কিলোমিটার রাস্তা, বোয়ালখালী-জামতলী সড়কের দুই কিলোমিটার রাস্তা যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এসব সড়ক মেরামতের জন্য প্রায় ৬০-৬৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বরাদ্ধের প্রয়োজন বলে জানিয়েছে কর্মকর্তারা।
এ ব্যাপারে দীঘিনালা উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী প্রশান্ত কুমার হালদার’র সাথে কথা বললে এলজিইডির আওতাধীন উপজেলার বিভিন্ন সড়ক চলাচল অনুপযোগী হওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, সড়কগুলো পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ করে এর সংস্কার কাজ করার জন্য প্রায় ১ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ না পাওয়ায় সংস্কার কাজ করা সম্ভব হয়ে উঠছেনা। বিগত সালের ৪ ডিসেম্বরের সড়ক গুলোর সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও প্রকল্প বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার নিকটে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। প্রকল্প বরাদ্দ আসলে শীঘ্রই এসব সড়কের মেরামত কাজ শুরু করা হবে বলে জানান তিনি ।
