বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পাহাড় ধসে অনেকের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙে গেছে। অতিবৃষ্টির কারণে ঘরবন্দি সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে পাহাড় ধসে রহমত উল্লাহর বসতঘর, শফি উল্লাহ (১ নম্বর ওয়ার্ড, আদর্শ গ্রাম), মোহাম্মদ ইসমাইল (৫ নম্বর ওয়ার্ড), মোহাম্মদ আব্দুল (২ নম্বর ওয়ার্ড, বিচামারা এলাকা) এবং নুরুল ইসলাম (৩ নম্বর ওয়ার্ড, ফুইট্যা ঝিরা)-এর বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মুই অং পাড়ার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম গর্জন খালের ওপর নির্মিত সেতুটি ভেঙে খালের মধ্যে ধসে পড়েছে। এতে পাড়াটির সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত মানুষ।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার ভোররাত প্রায় ৪টার দিকে একটানা মুষলধারে বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট প্রবল পানির স্রোতে বিকট শব্দে সেতুটি ধসে যায়। শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘুম থেকে জেগে বাইরে এসে দেখেন, সেতুটি ভেঙে খালের মধ্যে পড়ে রয়েছে।
মুই অং পাড়ার বাসিন্দা ও স্কুলশিক্ষক মংচাচিং মার্মা জানান, ভোররাতে বিকট শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। পরে বাইরে এসে তারা দেখতে পান, গর্জন খালের ওপর নির্মিত একমাত্র সেতুটি সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। ফলে পাড়ার মানুষের যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া উপজেলা সদরের সঙ্গে সকল ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা চলমান আছে।
সোনাইছড়ি, দৌছড়ি ও ঘুমধুম ইউনিয়নের নিচু এলাকায় পানি কমলেও টানা বৃষ্টি হলে আবার পানি বাড়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
এদিকে টানা বৃষ্টিতে উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের মৌসুমি ফলের ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান এলাকার সাধারণ কৃষকরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রতিবেদককে বলেন, বাইশারীতে একটি ব্রিজ ধসে গেছে বলে শুনেছি। আমাদের প্রতিটি ইউনিয়নে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রসমূহ খোলা আছে। উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে গতকাল ঘুমধুম ইউনিয়নে ৭৫টি পরিবারকে শুকনো খাবার পৌঁছে দিয়েছি। ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বাইশারী ও সদর ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ অব্যাহত আছে এবং বিভিন্ন ইউনিয়নে ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য ১০ মে. টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
