‘নিজস্ব সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই আন্দোলন করছে বঞ্চিত বাঙ্গালী জনগোষ্ঠি’
আলমগীর মানিক, রাঙামাটি:
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির বিশিষ্ট্য ব্যক্তিবর্গ বলেছেন, বাঙ্গালীদের আন্দোলন কখনোই উপজাতীয় অথবা ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠিার বিরুদ্ধে নয়, এই আন্দোলন শুধুমাত্র বাঙ্গালিদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই। তারা বলেন, উপজাতীয়রা যদি কোনো সুবিধা পায় তাতে কোনো আপত্তি নাই কিন্তু, একটি জাতি গোষ্ঠিকে এককভাবে সুবিধা দিয়ে বৈষম্য সৃষ্টি করে অপর জাতি গোষ্ঠিগুলোর অস্থিত্ত্ব সংকটে ফেলা হলে তা মেনে নেওয়া হবেনা। আর বর্তমান প্রেক্ষাপটে পার্বত্যাঞ্চলের বসবাসরত বঞ্চিত বাঙালী জনগোষ্ঠির নিজেদের অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তারা।
শনিবার স্থানীয় একটি রেস্তোরায় ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারা এসব মন্তব্য করেন। পার্বত্য অঞ্চলের নির্যাতিত মানুষের অধিকার আদায়ের শ্লোগানে গঠিত পার্বত্য যুব ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলপূর্ব আলোচনা সভায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের পাশাপাশি জেলার বিভিন্ন বিশিষ্ট্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার পরিষদের সাবেক সদস্য ও ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারম্যান এ এস এম শহিদুল্লাহ, সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান হাবিব, রাঙামাটি জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি এডভোকেট মোখতার আহম্মেদ, সাবেক ছাত্রনেতা জাহাঙ্গীর আলম মুন্না, ব্যবসায়ি ও রাজনীতিবিদ জসিম উদ্দিন তালুকদার, দৈনিক রাঙামাটি পত্রিকার প্রকাশক জাহাঙ্গীর কামাল, এডভোকেট মুন্না, সাবেক যুবলীগ নেতা মুজিবুর রহমান মুজিব, যুবলীগ নেতা জামিল, যুব ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহজাহান আলমসহ সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার আছে দেশের যেকোন স্থানে বসতি স্থাপন করার। কিন্তু উপজাতিরা চায় না যে সমতল থেকে কোন মানুষ এসে পার্বত্যাঞ্চলে বসতি স্থাপন করুক। তাই তারা শান্তি চুক্তির মাধ্যমে ভূমি বিরোধ নিস্পত্তি কমিশনের নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে পার্বত্য বাঙ্গালী উত্খাত করতে উঠেপরে লেগেছে। সরকারী বিভিন্ন মন্ত্রী বা কর্মকর্তারাও বাঙ্গালীদেরকে পার্বত্য অঞ্চলের অধিবাসী মনে করছেন না। তারা বাঙ্গালীদেরকে রিফিউজি হিসেবে দেখছেন। তাই নিজ দেশে বাঙ্গালীরা আজ পরবাসী হয়ে জীবন কাটাচ্ছে। সরকার পার্বত্য অঞ্চলে বসবাসরত বাঙ্গালীদের অধিকারকে জলাঞ্জলি দিয়ে উপজাতিদের অযৌক্তিক দাবী মেনে নিচ্ছে শুধু ভোটের আশায়। আর তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে চলছে বাঙ্গালী উৎখাতের গোপন নীল নকশা ও ষড়যন্ত্র। আর এ ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি পেতে এখানে বসবাসরত অধিকার হারা বাঙ্গালীদের এক কাতারে এসে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন ছাড়া কোনো উপায় নেই।


















