parbattanews

পতাকা বৈঠকে ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে বিএসএফ

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্তে শূন্যরেখায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে বিজিবি সদস্যদের ‘ফায়ারিং পজিশন গ্রহণের পর উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই বৈঠকে নিজেদের অবৈধ সীমান্ত দখল আড়াল করতে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে স্থানীয় বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে। ভারতের অভ্যন্তরে তিনবিঘা করিডোর সড়কের পাশে বিএসএফের সভাকক্ষে এ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএসএফ অভিযোগ তোলে যে, বাংলাদেশি নাগরিকরা ভারতীয় জমির ফসল নষ্ট করছে। এর জবাবে বিজিবি আশ্বস্ত করে জানায়, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বেআইনিভাবে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করেনি। যদি কেউ প্রবেশ করার চেষ্টা করে তাহলে অবশ্যই আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) পক্ষে নেতৃত্ব দেন রংপুর-৫১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান। অন্যদিকে, ভারতের পক্ষে অংশ নেন ১৭৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট ভিনোদ রেঢু এবং ৩০ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট এস নারায়ণ মিশরা।

বৈঠকে বিএসএফ দাবি করে, শূন্যরেখা থেকে ৫০ গজের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের উদ্দেশ্যে তারা ৩ ফুট উচ্চতার বাঁশের খুঁটি স্থাপন করেছিল। এ সময় বিজিবি সদস্যদের ‘ফায়ারিং পজিশনে’ যাওয়ার বিষয়টিকে তারা অনাকাঙ্ক্ষিত বলে উল্লেখ করে। এর জবাবে বিজিবির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ১৯৭৪ সালের ইন্দিরা-মুজিব সীমান্ত চুক্তি অনুযায়ী সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই। আইন লঙ্ঘন করে খুঁটি স্থাপন করায় বিজিবি প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিতে বাধ্য হয়।

​ভবিষ্যতে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের কাজ শুরুর আগে দুই বাহিনীর মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে স্পষ্টভাবে একমত পোষণ করা হয়।

​উল্লেখ্য, এর আগে গত শুক্রবার দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখার মাত্র ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা মাপজোখ এবং বাঁশের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করে। আইন লঙ্ঘন করে এ কাজ শুরু করায় বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে তাতে বাধা দেয়। এর ফলে উভয় বাহিনী সীমান্তে মুখোমুখি অবস্থান নিলে ওই এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবারের এ পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হলো

Exit mobile version