চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে যুদ্ধবিরতি অর্জনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রশংসা করেছে চীন।
টাইমস অব ইসলামাবাদের খবরে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি সৃষ্টিকারী মাসব্যাপী যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতার প্রচেষ্টায় চীন তার পূর্ণ কূটনৈতিক সমর্থন জানিয়েছে।
২৭ মার্চ উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সাথে টেলিফোনে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসলামাবাদের প্রচেষ্টার সুস্পষ্ট প্রশংসা করেছেন।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে পাকিস্তানের “নিরলস প্রচেষ্টার” প্রশংসা করেছে চীন।
ওয়াং বলেছেন, অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও স্থায়ী শান্তির জন্য যৌথভাবে কাজ করতে চীন পাকিস্তান ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়াতে প্রস্তুত।
এই সমর্থনটি এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তান ২৯ মার্চ ইসলামাবাদে তুরস্ক, মিশর এবং সৌদি আরবের শীর্ষ কূটনীতিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠকের আয়োজন করে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা পরোক্ষ বার্তা বিনিময়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের পথ খোলার লক্ষ্যেই এই সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়।
পাকিস্তান ইতোমধ্যে তেহরানকে যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি রূপরেখা পাঠিয়েছে, যা নিয়ে ইরান সক্রিয়ভাবে আলোচনা করছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উভয় পক্ষের আস্থার কথা উল্লেখ করে আগামী দিনগুলোতে আনুষ্ঠানিক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা আয়োজনে ইসলামাবাদের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করেছেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় সংঘাতটি শুরু হয়, যাতে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ ১,৩০০ জনেরও বেশি ইরানি নিহত হন।
এরপর ইরানের প্রতিশোধমূলক হামলায় অঞ্চলজুড়ে ২৪ জন ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আরও হাজার হাজার নাগরিক আহত হয়েছেন।
মার্কিন বাহিনীর ১৫ জন সৈন্য নিহত ও ৩৩২ জন আহত হয়েছেন এবং ১৭টি সামরিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতিতে কমপক্ষে ৮০ কোটি ডলারের লোকসান হয়েছে।
