parbattanews

পাকিস্তান সীমান্তের কাছে এস-৪০০ স্কোয়াড্রন মোতায়েন করল ভারত

ছবি টাইমস অব ইসলামাবাদ থেকে সংগৃহীত।

পাকিস্তান সীমান্ত ঘিরে নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করেছে ভারত। দেশটি তাদের অত্যাধুনিক এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মোতায়েনে নতুন সমন্বয় এনেছে। বর্তমানে ভারতের মোট এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের প্রায় ৬৫ শতাংশ পাকিস্তান সীমান্তমুখী এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে, আর বাকি ৩৫ শতাংশ রাখা হয়েছে চীনের সঙ্গে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর।

২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে চতুর্থ এস-৪০০ স্কোয়াড্রন ভারতের হাতে পৌঁছানোর পর ভারতীয় বিমান বাহিনী এই পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন করে। প্রতিরক্ষা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তিনটি স্কোয়াড্রন ভারতের পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর—পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাট—জুড়ে দায়িত্ব পালন করছে।

ভারত ২০১৮ সালে রাশিয়ার সঙ্গে প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির মাধ্যমে পাঁচটি এস-৪০০ ট্রায়াম্ফ স্কোয়াড্রন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা “সুদর্শন চক্র” নামেও পরিচিত। চতুর্থ চালানটি আসার আগেই তিনটি ইউনিট কার্যকর ছিল এবং পঞ্চম ও শেষ স্কোয়াড্রনটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এস-৪০০ বিশ্বের অন্যতম আধুনিক দীর্ঘপাল্লার আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত। এর কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সংস্করণের সর্বোচ্চ কার্যক্ষমতা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে সীমান্তের নিকটবর্তী অবস্থান থেকে এটি পাকিস্তানের আকাশসীমার একটি বড় অংশ, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা ও জনবসতিপূর্ণ এলাকাকেও নজরদারির আওতায় আনতে সক্ষম।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই মোতায়েন কোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ নয়; বরং পশ্চিম ও উত্তর সীমান্তে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় নিয়মিত সামরিক কৌশলের অংশ হিসেবেই এ সমন্বয় করা হয়েছে। জানা গেছে, পশ্চিমাঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে চতুর্থ স্কোয়াড্রনটি রাজস্থান সেক্টরে মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে একটি স্কোয়াড্রন শিলিগুড়ি করিডোরে দায়িত্ব পালন করছে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের কৌশলগত যোগাযোগ রক্ষা করে। অন্যদিকে পাঞ্জাবের পাঠানকোটে থাকা আরেকটি ইউনিট জম্মু-কাশ্মীরসহ আশপাশের এলাকায় সমন্বিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

এস-৪০০ ব্যবস্থাগুলো ভারতের বৃহত্তর বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করে। এই নেটওয়ার্ক দূরপাল্লার রাডার, নজরদারি ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন উচ্চতায় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসে সক্ষম ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়ে গঠিত। এটি যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্রুজ মিসাইল ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ নানা ধরনের আকাশ হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।

প্রতিটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনে একাধিক লঞ্চার, শক্তিশালী রাডার এবং কমান্ড ভেহিকেল থাকে। এই সিস্টেম একসঙ্গে প্রায় ৩০০টি লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ট্র্যাক করতে পারে এবং একই সময়ে ৩৬টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম।

এদিকে, ২০২৫ সালের মে মাসে সংঘটিত ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা—যা “অপারেশন সিন্ধুর” নামে পরিচিত—সেখানে এস-৪০০ ব্যবস্থার সফল ব্যবহারের খবর প্রকাশের পর ভারত অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ সংগ্রহের পাশাপাশি আরও পাঁচটি নতুন স্কোয়াড্রন কেনার অনুমোদন দিয়েছে।

সূত্র: টাইমস অব ইসলামাবাদ (২৬ মে ২০২৬)

Exit mobile version