শাহজাহান কবির সাজু, পানছড়ি :
প্রচন্ড খরা আর কাট ফাঁটা রোদ দমাতে পারেনি এবারের বোরো চাষকে। বাম্পার ফলনে সবুজ পাতার মাথা ভেদ করে উঁকি দিয়েছে হলদে রঙের সোনালী ধানের শীষ। তাই কৃষাণ-কৃষাণীর মুখে স্বস্তির হাসি। দু’দিন পরেই ঘরে উঠবে নতুন ধান। খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলাটি ভারত সীমান্ত ঘেঁষে যাওয়া চেংগী নদীর বুক চিরে সবুজে ঘেরা আঁকা-বাঁকা এই মানচিত্রে এবারের বোরোর বাম্পার ফলন যেন মহান আল্লাহর এক রহমতের ছোঁয়া।
প্রচন্ড খরা আর পানির হা-হা কারের মাঝেও পুরো পানছড়ির বোরোর মাঠের হলদে সবুজের ঢেউয়ের খেলছে। দেখে মনে হয়, যেন এক শিল্পীর হাতের তুলির ছোঁয়ার নয়নাভিরাম দৃশ্য। সত্যিই অপরুপ সৌন্দর্যের এক ধানের মেলা।
সরেজমিনে উপজেলার কিনাচান পাড়া এলাকায় দেখা যায়, মাঠের মাঠের পর মাঠ সেজে আছে হলদে সবুজের সাজে আর বাতায়নে দুলছে উঁকি মারা ধানের শীষগুলো। কথা হয় বয়োবৃদ্ধ কৃষাণী দুমপতি চাকমা ও কৃষাণ বিন্দু কুমার চাকমার সাথে। দুমপতি জানালেন, স্বামীর মৃত্যুর পর নিজেই চাষ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এবারে বিশ শতক জমিতে বোরো চাষ করেছেন। ফলন নিয়ে খুব খুশী। জমি দেখিয়ে জানালেন গত বছর এই জমিতে পঁয়ত্রিশ হাড়ি (নয় মন) ধান পেয়েছেন। কিন্তু এবারের ফলন আরো ভালো হয়েছে বলে তিনি জানান।
পাশেই বিন্দু চাকমার জমি। বিন্দু চাকমা একজন সফল চাষী বলে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা যায়। পান চাষ, পাম ওয়েল ও ধান চাষে যথেষ্ট পারদর্শী বিন্দু চাকমা। তিনি এই প্রতিবেদককে জানান, গত বছর চল্লিশ শতক জমিতে বিশ মনের অধিক ধান পেয়েছেন। তবে এবার আরো বেশী তথা পঁচিশ মনের অধিক ফলনের ব্যাপারে আশাবাদী। এই ফলনের রহস্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বিন্দু জানান, আগে আমরা ছিটানো সার ব্যবহার করতাম। যার ফলে পানির সাথে সারের কার্যকারীতা সব চলে যেত। এবার কৃষি অফিস থেকে গুটি ইউরিয়া দিয়েছে সেটা ব্যবহারের ফলে ধানের সাইজও হয়েছে বেশ বড় আর ফলনও হয়েছে আগের তুলনায় অনেক বেশী। এলাকার কার্বারী বিজয় কুমার কার্বারী জানান, এবারের বোরোর ফলন গত বারের তুলনায় অনেক বেশী হয়েছে।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: মানিক মিয়া জানান, গুটি ইউরিয়া ব্যবহারের ফলে এবারের ফলন সব রেকর্ড ছড়িয়ে গেছে। গুটি ইউরিয়াকে কয়েক গোছা ধানের মাঝ বরাবর পুঁতে দিতে হয়। ফলে ধানের চারা সহজেই মাটি থেকে শক্তি টেনে নিতে পারে। গুটি মাটিতে পুঁতে রাখার ফলে বৃষ্টির পানির সাথে ধুয়েও যেতে পারে না। তাছাড়া পূর্বাঞ্চলীয় সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন (২য় পর্যায়ের) প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে এই গুটি বিতরণ করা হয় বলে তিনি জানান।
পানছড়ি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: শাহজাহান জানান, বাম্পার ফলনের জন্য গুটি ইউরিয়ার পাশাপাশি পানছড়ি রাবার ড্যামও সময়মত পানি দিয়ে যথেষ্ট সহায়ক ভুমিকা রেখেছে। গত বছর পুরো উপজেলায় এক হাজার আটশত হেক্টর জমিতে প্রায় নয় হাজার মেট্রিকটন ফলন হয়েছিল। বর্তমান বছরে এক হাজার সাতশত দশ হেক্টর জমির মাঝে তিনশত সত্তর হেক্টরে হাই ব্রীড ও এক হাজার তিনশত চল্লিশ হেক্টরে উপসি ধানের চাষ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা গতবারের তুলনায় অনেক বেশী হবে বলে তিনি জানান।
