পানছড় প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলার ৩নং সদর পানছড়ি ইউপির গ্রাম আইয়ুব নগর। আইয়ুব আলী মেম্বার পাড়া নামেও গ্রামটি বেশ পরিচিত। পানছড়ি ডিগ্রী কলেজের উত্তরে ও পানছড়ি-খাগড়াছড়ি সড়কের পূর্ব পাশেই গ্রামটির অবস্থান। গ্রামের বেশীর ভাগ লোকেরই বসবাস দারিদ্র সীমার নিচে। এ গ্রামে উৎপাদিত শাক-সবজি গ্রাম ছেড়ে শহরেও যায়। তাই গ্রামটি উপজেলার শাক-সবজি উৎপাদনের ভান্ডার নামেও পরিচিত।
কিন্তু মানুষের গ্রামে প্রবেশের রাস্তায় একমাত্র কালভার্টটি অজ্ঞাত কারনে দীর্ঘ বছর ধরে পড়ে আছে ভাঙ্গা-চোরা অবস্থায়। এটিই গ্রামের একমাত্র প্রবেশদ্বার তাই গ্রামবাসী মিলে প্রথমে বাঁশের দিয়ে কোন রকম চলাচলের উপযোগী করলেও কোমলমতি শিশুরা বিদ্যালয়ে যেতে প্রতিদিনই কবলিত হতো কোন না কোন দুর্ঘটনায়। এরি মাঝে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর কয়েকবার গিয়ে মাপ-যোগ করলেও গ্রামবাসীর জন্য সান্তনার বানী ছাড়া আর কিছু দিতে পারে নাই।
অবশেষে গ্রামবাসী তাদের ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ দিক চিন্তা করে নিজেরাই কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। তাই কেউ মুষ্ঠির চাল, ২টাকা, ৫টাকা ও ১০টাকায় তহবিল গঠন করে নিজেদের স্বেচ্ছাশ্রমে কালভার্টটি চলাচলের উপযোগী করে তোলে। বিদ্যালয় পড়–য়া নাহিমা, অভি, দাউদ, দিদার, মাসুদ, আয়েশা, মাইনুল এ প্রতিবেদককে জানায়, আগে বাঁশের উপর দিয়ে পার হতে গিয়ে কেউ কেউ পড়ে আহত হয়েছে। তাই খুব ভয় হতো। বর্তমানে কাঠের তৈরী ছাউনির উপর দিয়ে হেঁটে বিদ্যালয় যেতেও ভয় হয় কারণ দু’পাশ খোলা।
গ্রামের সবির আহাম্মদ, মো: জহিরুল, মনির, মজিদ ও রোকেয়া জানায়, মেম্বারকে জানানো হয়েছে এবং ইঞ্জিনিয়ার অফিস থেকে লোক এসে চলাচলের করুণ হাল দেখেও গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ইঞ্জিনিয়ার অফিসে যদি ঘুষ লাগে তাও গ্রামবাসী ৫/১০ টাকা করে তুলে দিবে তারপরও আমাদের কালভার্টটি যেন নির্মান করে দেয়। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: খোরশেদ আলী জানায়, প্রতি বছরই এডিবি’র আওতায় কালভার্টটি নির্মান করার ব্যাপারে আশ্বাস প্রদান করা হয় এবং তালিকাতে নামও থাকে। কিন্তু চুড়ান্ত তালিকা থেকে যে কিভাবে বাদ যায় তা বোধগম্য নয়।