পানছড়ি প্রতিনিধি:
পানছড়ি ইউপি চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা ও সচিব মো: নজরুল ইসলামের মহানুভবতায় দীর্ঘ চার বছর পর মায়ের কোলে ফিরে গেল মানসিক ভারসাম্যহীন মো: হাসান। বৃহষ্পতিবার বিকাল চার টার দিকে মামা মো: আলাউদ্দিনের হাত ধরে পানছড়ি ত্যাগ করে হাসান।
জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় চার বছর আগে খাগড়াছড়ি জেলার পানছড়ি উপজেলা সদর পানছড়ি বাজারে আগমন ঘটে মানসিক ভারসাম্যহীন মো: হাসানের। শান্ত স্বভাবের হাসান পানছড়ি বাজার এলাকার সর্বসাধারনের মাঝে মাইকেল নামেই পরিচিত ছিল। তবে ৩নং পানছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে তার আনাগোনা বেশী ছিল বলে সখ্যতা গড়ে উঠে ইউপি চেয়ারম্যান অসেতু বিকাশ চাকমা ও সচিব নজরুল ইসলামের সাথে।
অবশেষে ইউপি সচিব নজরুল বিভিন্ন কলা কৌশল করে তার গ্রামের বাড়ী ও মা-বাবার নাম ঠিকানা জেনে নেয়। তার পর থেকেই শুরু হয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব পর্যায়ে যোগাযোগ। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর তার সঠিক ঠিকানা পেতে সমর্থ হয় তারা। তাকে নিতে আসা তার মামা আলাউদ্দিন জানান, হাসান নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের রফিকপুর গ্রামের মৃত আবদুল হাকিম ও আনোয়ারা বেগমের ছেলে। দীর্ঘ চারটি বছর দেশের বিভিন্ন জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর তাকে না পেয়ে মা ও ভাইয়েরা তার আশা ছেড়েই দিয়েছিল। কিন্তু এক মহানুভবতার পরিচয় দিয়ে শেষ পর্যন্ত হাসানকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিয়েই স্বস্তির নি:শ্বাস ফেললেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব।
এদিকে বিদায় বেলায় দু’পক্ষকেই দেখা গেছে অশ্রুসজল। সচিব নজরুল জানালেন, দীর্ঘ এক বছর যাবত আমাদের পরিবারের একজন সদস্যর মতোই ছিল হাসান। তাই হৃদয় ভারাক্রান্ত হলেও সে যেন সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে আসে এটাই আমার কামনা। হাসানের বড় ভাই আবুল কাশেমের সাথে মুঠোফোনে আলাপকালে জানায়, ভাইয়ের খবর পেয়ে আমরা খুশীতে আত্মহারা, তাছাড়া তার মা আনোয়ারা বেগম হারিয়ে যাওয়া ছেলেকে দীর্ঘ বছর পর কাছে পেয়ে বুকে জড়িয়ে ধরার অধীর আগ্রহ নিয়ে পথ চেয়ে বসে আছে বলে জানান।
বিদায় লগ্নে হাসান হাসতে হাসতে তার আঞ্চলিক ভাষায় বললেন, “আঁই বিয়া করি দুই মাস হরে বৌ লই আন্নেরগো ইয়ানে আবার আইয়ুম”।
