দুলাল হোসেন,খাগড়াছড়ি॥
খাগড়াছড়ি’র পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষের রাত্রিযাপন যেন এখন রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। এ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের কোন মাথা ব্যাথা না থাকায় অবৈধ কার্যক্রম চলছে প্রতিনিয়ত। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মহিলা ওয়ার্ডে পুরুষের রাত্রিযাপন নিয়ে লোক মুখে বলাবলি ও কানাকানি বেশী দুর না গড়াতেই বৃহষ্পতিবার রাত সাড়ে তিনটায় লাল মিয়া নামের একজন ঘটিয়ে দিল এক তুলকালাম কান্ড। উপজেলার ৫নং উল্টাছড়ি ইউপির মধ্য নগর গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া। নাম যেমন লাল মিয়া দেখতেও টগবগে লাল। ২৩ বছর বয়সী লাল মিয়া এরই মাঝে দুটি বিয়ে করেছেন। দু’ঘরেই রয়েছে দুটি ছেলে সন্তান। তাই এলাকায় বিয়ে পাগল লাল মিয়া হিসাবেও তার বেশ খ্যাতি আছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানাযায়, শ্বাশুড়ীর অসুস্থতার কারণে পানছড়ি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হলে বৃহষ্পতি ও শুক্রবার দু’রাতেই মহিলা ওয়ার্ডে রাত্রিযাপন করেন লাল মিয়া। বিষয়টি কর্তব্যরত নার্স বা চিকিৎসক কেউই আমলে নেয়নি বলে জানাযায়। এ অবস্থায় ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ফাতেমা নগর গ্রামের এক মহিলার দিকে নজর পড়ে তার। বৃহষ্পতিবার দিনে ঐ মহিলার সাথে রঙ্গ-রসের আলাপ ছাড়াও দু’একবার কেক দিয়ে নাস্তা করান তাকে। পাশাপাশি সিটে রাত্রিযাপন কালে সুযোগ বুঝে রাত সাড়ে তিনটার দিকে লাল মিয়া মহিলার বুকে হাত দেয়। টের পেয়ে মহিলা চিৎকার দিলে লাল মিয়া ওয়ার্ড থেকে বাহিরে চলে যায়। শুক্রবার সকালে মহিলা থানায় এসে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করলে পানছড়ি থানা পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাল মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুফিদুল আলমের নিকট ৩৪২ ধারায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে ভ্রাম্যমান আদালত তাকে ৩৫৪ দ: বিধিতে তিন মাসের বিনাশ্রম সাজা প্রদান করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
পানছড়ি থানা হাজতে থাকা অবস্থায় সংবাদকর্মী দেখে লাল মিয়া উত্তেজিত হয়ে বলেন “লিখেন কোন সমস্যা নাই, তিন মাস পর জেল থেকে এসে হিসাব করবো।
এ ব্যাপারে পানছড়ি উপজেলা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা নারায়ন চন্দ্র দাশ মুঠোফোনে বলেন, আমি এখন চট্টগ্রামে আছি। এ ব্যাপারে কিছু জানি না।