নিজস্ব প্রতিবেদক:
সকল সম্প্রদায়ের বসবাসের জন্য বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে মত ব্যক্ত করেছেন সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদার। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যাতে স্ব স্ব ধর্ম নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে তার জন্য সরকার কাজ করলেও বিএনপি জাতায়াত জোট সরকারের এই কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। তারা দেশের মধ্যে সাম্প্রদায়িক বিষবাস্প ছড়িয়ে দিয়ে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করছে। তাদের এই বিভেদকে নসাৎ করে দিতে অসাম্প্রদায়িক সকল শক্তিকে এক হয়ে মোকাবেলা করার আহবান জানান।
গতকাল কাউখালী উপজেলার বেতবুনিয়া কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারে ২৮ বুদ্ধ জাদী উৎসর্গ, গণপ্রব্রজ্যা ও উপসম্পদা অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে ধর্মসভায় বিশেষ পূর্ণার্থীর বক্তব্যে হিসাবে এ কথা বলেন।
রামগড়া মহামুনি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সরিয়িন্দ মহাথেরো এর সভাপতিত্বে ২৮ বুদ্ধ জাদী উৎসর্গ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কাপ্তাই চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, রাজ নিকার মার্গ মহাসংঘনায়ক ভদন্ত পামোক্ষা মহাথেরো, আশীবার্দক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নারাংগিরি হেডম্যানপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত পঞ্ঞাকবি মহাথেরো। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি জনবল বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চন্দ্রমনি মহাথেরো, কাউখালী পশ্চিম লুঙ্গীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সাসনা মহাথেরো, বান্দরবান উজানীপাড়া বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত চান্দাওয়ারা মহাথেরো, যুক্তরাজ্য বার্মিংহাম এর ভদন্ত ড. নাগাসেনা মহাথেরো। ধর্ম দেশক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, টেকনাফ অশোকরাম বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত কবিসারা মহাথেরো, গহিরা অঙ্গুরঘোনা জেতবনারাম বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত সত্যপাল থেরো।
ধর্মসভায় আরো বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদের সদস্য অংসুই প্র“ চৌধুরী, জেলা পরিষদ সদস্য বৃষকেতু চাকমা, কাউখালী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এস,এম চৌধুরী, কাউখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অংশি মারমা সহ কাউখালী উপজেলার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
দীপংকর তালুকদার বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে খুবই আন্তরিক। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্য অঞ্চলে শুধু মসজিদ করে দেননি। তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষের কথা চিন্তা করে মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গীর্জা সহ সকল সম্প্রদায়ের উপসনালয়কে নতুন করে রূপ দিয়েছে। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদে নির্বিঘ্নে তাদের সৃষ্টি কর্তার কাছে প্রার্থনা করতে পারে তার জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
তিনি বলেন, কিন্তু পার্বত্য অঞ্চলের একটি সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী রয়েছে যে গোষ্ঠী শুধু সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে চিন্তা করে। তাদের হাতে কোন কাজ থাকে না। যে কোন ভাবে একটি সাম্প্রদায়িক সমস্যা সৃষ্টি করে এ থেকে তারা ফায়দা লোটার চেষ্টা করে। তিনি এই সকল সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ভাবে আন্দোলন করার আহবান জানান।
আলোচনা সভা শেষে পঞ্চশীল প্রার্থনা, বুদ্ধ মুর্তিদান, সংঘদান সহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ২৮ বুদ্ধ জাদী উৎসর্গ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পরে সাবেক পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ও কাপ্তাই চিংম্রং বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ, রাজ নিকার মার্গ মহাসংঘনায়ক ভদন্ত পামোক্ষা মহাথেরো ২৮ বুদ্ধ জাদী বিহারের ফলক উন্মোচন করেন এবং হাজার প্রদীপ প্রজ্বলনের মধ্যে দিয়ে ৩ দিন ব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটনা।
