স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আত্মত্যাগের এক গৌরবোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান, এসবিপি। ২০২২ সালের আজকের এই দিনে শহীদ হন হাবিবুর রহমান এসবিপি।
বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ রুমা জোনে দায়িত্ব পালনরত এই বীর সেনাসদস্য ২০২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তারিখে সন্ত্রাসীদের অবস্থান সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে একটি টহল দলের নেতৃত্ব দেয়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীরা অতর্কিতভাবে গুলিবর্ষণ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রচণ্ড গোলাগুলির মধ্যেও অসীম সাহসিকতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়ে সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার হাবিবুর রহমান পাল্টা আক্রমণ পরিচালনা করেন। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ঘটনাস্থলেই তিনজন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয় এবং বাকি সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি বুকে ও মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
অভিযান শেষে ঘটনাস্থল থেকে একটি এসএমজি, ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, তিনটি ম্যাগাজিন, তিনটি দেশীয় বন্দুক, পাঁচ রাউন্ড দেশীয় বন্দুকের গুলি, চার জোড়া সন্ত্রাসীদের ইউনিফর্ম এবং চাঁদাবাজির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান ২৮ বীর, রুমা জোনের একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র জেসিও হিসেবে সৎ, মেধাবী, কর্মঠ ও দক্ষ সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দেশমাতৃকার নিরাপত্তা ও পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাঁর আত্মত্যাগ সেনাবাহিনীসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য গর্বের ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁকে সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রদান করা হয়।
শহিদ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমান ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগদান করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগদানের পর সুদীর্ঘ ৩০ বছর চাকুরি জীবনে তিনি মেধা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট/সংস্থায় তাঁর উপর অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করেন।
শহিদ সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. হাবিবুর রহমানের আত্মত্যাগের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ২০২৩ সালে তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধানের নির্দেশনায় তার নিজ জমিতে পরিবার পরিজনের জন্য আবাসন গড়ে দেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমানের পৈত্রিক বাড়ি পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার মহিপুরে। তবে তিনি পটুয়াখালী পৌরসভায় বাড়ি করেছিলেন। শহীদ সেনা সদস্য হাবিবুর রহমানের মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই ছেলে রয়েছে। পিতার গৌরবোজ্জ্বল আত্মত্যাগে অনুপ্রাণিত হয়ে দেশকে ভালোবেসে দেশ রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন তার ছোট ছেলে হাসান।
শহীদ হাবিবুর রহমানকে স্মরণ করে শ্রদ্ধাঞ্জলী জানিয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।
