বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও মিয়ানমার সীমান্তের পাহাড়ি ঢলের পানি তুমব্রু খালের উভয় তীর গড়িয়ে এবার তলিয়ে গেছে ঘুমধুম ইউনিয়নের তুমব্রু বাজারসহ ৫ গ্রাম। এছাড়া এলাকার প্রধান সড়কটি সকাল ১১টা থেকে পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে যায়। ফলে সীমান্ত সড়কের এ অংশে সকল প্রকার যোগাযোগ বিঘ্ন ঘটে।
অপরদিকে তুমব্রু খালে ভেসে নিখোঁজ হওয়া পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র মো. ইমরানকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তাকে ২ দিন ধরে ডুবুরি দল ও স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করছেন।
নিখোঁজের পরিবার সূত্র জানান, মো. ইমরান নিখোঁজের আগে অন্য শিশুদের সঙ্গে তুমব্রু খালের তীরে খেলছিল। এক পর্যায়ে খালের ভাঙ্গনে ঢলের পানিতে সে ভেসে যায়।
পরে সোমবার দেড়টায় এ ঘটনার পর বিকেলে তারা ডুবুরি এনে বিকেল থেকে রাতভর খোঁজাখুঁজি করে। ব্যর্থ হয়ে ফিরে যায় ডুবুরিরা।
মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকালে তারা পুনরায় আসার কথা থাকলেও আসে নি। তবে স্বজনরা এখন সন্তানের খোঁজে সচেষ্ট রয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২ দিন ধরে টানা বর্ষণে মিয়ানমার থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি দ্বিগুণ বেড়ে গেলে তুমব্রু এলাকার ৫ গ্রাম তলিয়ে যায়। খালের পানিসহ সর্বত্রে এখন থৈ থৈ পানি।
স্থানীয় তুমব্রু বাজার ব্যবসায়ী আলী আকবর, শাহজাহান ও হোছাইন আহমদ জানান, টানা ২ দিনের বর্ষণে তুমব্রু বাজারের অধিকাংশ তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া কোনারপাড়া, তুমব্রু স্কুলপাড়া, মধ্যম পাড়া, উত্তর পাড়া ও তুমব্রু পশ্চিমকূলের সমতলের বসতবাড়ি পুরো অংশ আর সীমান্ত সড়কের একটি অংশ পানির নিচে এখন। যাতে করে এলাকাবাসীর সড়ক যোগাযোগ থেমে গেছে।
অপরদিকে রোববার রাত ও সোমবারের বর্ষণে বিচ্ছিন্ন নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়ক যোগাযোগ মঙ্গলবার সকাল থেকে পুনরায় চালু হয়েছে। তবে নাইক্ষংছড়ি উপজেলার সর্বত্র থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া সড়কের নাইক্ষ্যংছড়ি বিজিবি ব্যাটালিয়ন সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটি ঢলের পানিতে নড়বড় হয়ে পড়েছে। যে কোন মুর্হূতে এ সেতুটি ভেঙে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প কর্মকর্তা (পিআইও) আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর জেলা অফিসকে জানিয়েছেন তিনি। সাড়া পেলে সহায়তার হাত বাড়াবেন।
