parbattanews

পাহাড়িদের উপর হামলাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি করেছে ৩ পাহাড়ি সংগঠন

 

ডেস্ক নিউজ :

গণতান্ত্রিক যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি নতুন কুমার চাকমা, পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি থুইক্যচিং মারমা ও হিল উইমেন্স ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কণিকা দেওয়ান আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে খাগড়াছড়ি সদর উজেলার কমলছড়ি ও বেতছড়ি গ্রামে পাহাড়িদের উপর হামলাকারী ও হামলার উস্কানিদাতাদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

বিবৃতিতে তারা বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারী খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে বাঙালি ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে সবিতা চাকমার হত্যার ঘটনায় ট্রাক চালক মো: নিজামসহ তার সহযোগীদের জড়িত করার প্রতিবাদ জানিয়ে এক মানববন্ধন করা হয়। উক্ত মানববন্ধনে খাগড়াছড়ি পৌর মেয়র রফিকুল আলম উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে সেটলারদের উস্কে দেন। এরপর সেটলাররা মিছিল সহকারে কমলছড়িতে গিয়ে পাহাড়িদের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক শ্লোগান দেয় এবং হামলা চালায়। এ হামলায় ২ জন পাহাড়ি গুরুতর আহত হয়।

বিবৃতিতে তারা আরো বলেন, কমলছড়ি হামলার ঘটনার রেশ না কাটতেই ২৬ ফেব্রুয়ারী আবারো সেটলার বাঙালিরা বেতছড়ি গ্রামে হামলা চালায়। এতে ১০ম শ্রেণীর এক স্কুলছাত্রীসহ একই পরিবারের ২ জন(মা-ছেলে) গুরুতর আহত হয়। এছাড়া হামলাকারীরা বেতছড়ি চৈত্যাদর্শ বৌদ্ধ বিহারসহ মধ্য বেতছড়ি ও পশ্চিম বেতছড়িতে পাহাড়িদের ঘর বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, জিনিসপত্র ভাংচুর চালায়।

বিবৃতিতে তিন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হামলাকারীদের বাধা না দিয়ে তাদের সহযোগিতা করেছে। এতে করে হামলাকারীরা পাহাড়িদের উপর হামলা চালাতে উৎসাহিত হয়। ইতিপূর্বে তাইন্দং হামলাসহ বিভিন্ন সময়ে ঘটে যাওয়া সাম্প্রদায়িক হামলার সময়ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একই ভূমিকা পালন করার প্রমাণ রয়েছে। এযাবত সংঘটিত হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় পাহাড়িদের উপর বার বার এ ধরনের সাম্প্রদায়িক হামলা ঘটছে।

নেতৃবৃন্দ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে পাহাড়িদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা, হামলাকারী ও হামলার উস্কানিদাতাদের খুঁজে বের করে গ্রেফতার ও বিচার, আহতদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ প্রদান, সবিতা চাকমার হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, উগ্রসাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীকে মদদদান বন্ধ করা, সেটলারদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার বন্ধ করে তাদের জীবিকা নিশ্চয়তাসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে প্রত্যাহার করে সমতলে পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার জন্য নিশ্চয়তা বিধানের জোর দাবি জানান।

Exit mobile version