parbattanews

পিলারের নিচের মাটি বিক্রি ঝুঁকিতে পদ্মা রেলসেতু

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কোন্ডা ইউনিয়নে এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের আশপাশ থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে। মাটি কাটার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে পিলারের নিচ ও আশপাশের মাটি অপসারণ করায় সেতুর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনের কাগজপত্র থাকার দাবি করে কেরানীগঞ্জের অংশে তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিলারের আশপাশের মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, পদ্মা রেলসেতুর পিলারের আশপাশে মাটি অপসারণের ফলে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও গর্তে পানি জমে রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত দুই মাসে পিলারের নিচের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অংশের মাটি কাটার চেষ্টা হলে কোন্ডা ইউনিয়নের নয়ামাটি এলাকার বাসিন্দারা বাধা দেন। এলাকাবাসীর বাধার কারণে বর্তমানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

কোন্ডা ইউনিয়নের নয়ামাটি গ্রামের বাসিন্দা হাশেম আলী বলেন, সরকার কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রেলসেতু নির্মাণ করেছে। অথচ পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে, এ বিষয়ে প্রশাসনের তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনায় আসার পর সংশ্লিষ্টদের নজরে এসেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার দাবি করেন, তারা বৈধ টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে মাটি কেনা হয়েছে। আমাদের সব ধরনের অনুমোদন ও কাগজপত্র রয়েছে। প্রকল্প কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ভরাট করা অতিরিক্ত মাটি অপসারণ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশনা পেয়ে আমি ফতুল্লার এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ছিলাম। ওইখানে রেলওয়ের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। যারা মাটি কাটছেন তারা একটি কাগজ দেখিয়েছেন তাদের নাকি মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে। এ নিয়ে তারা জেলা প্রশাসক স্যারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের আপাতত কাজ বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির প্রকৌশলী নাহিদুল ইসলাম বলেন, রেললাইন নির্মাণকাজের সময় মালামাল পরিবহনের সুবিধার্থে ওই এলাকায় মাটি ও বালু ফেলে অস্থায়ীভাবে ভূমি উঁচু করা হয়েছিল। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ায় পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখতে অতিরিক্ত মাটি অপসারণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘সেতুর পাইল ও পাইল ক্যাপ গভীর ভিত্তির ওপর নির্মিত। প্রকৌশলগত নকশা অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত অংশের মাটি অপসারণে পিলারের কোনো ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। মাটি কাটার বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উমর ফারুক বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। এদিকে গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, প্রকল্পের কাজের অংশ হিসেবে সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সরানো হয়নি। একটু উঁচু হওয়ায় ওখান থেকে আবার মই দিয়ে কিছু কিছু জিনিস চুরি হয়েছে। ফলে সার্বিক বিবেচনায় ওটা সরানো হয়েছিল। অতিরিক্ত মাটি ছিল বাধা তৈরি করার জন্য, কনস্ট্রাকশন কাজের সহায়ক হিসেবে। এখন মাটি কাটা বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়েছে, ওখানে গাছ লাগানো হবে।

Exit mobile version