পেকুয়া প্রতিনিধি :
পেকুয়ায় প্রশাসন ও পুলিশের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অভিযানের মধ্যেও মাদকজাত দ্রব্য বেচা-কেনা থেমে নেই। চিহ্নিত মাদক আস্তানা এড়িয়ে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রেতারা এখন মোবাইল কলেই নির্দিষ্ট স্থানে মাদক দ্রব্য পৌঁছে দিচ্ছে। কক্সবাজার থেকে ভিন্ন ভিন্ন কৌশলে কখনো সাগর পথে আবার কখনো কলেজ পড়ুয়া ছাত্র বেশে আবার কখনো মহিলা দিয়ে ইয়াবা ও হিরোইন পেকুয়ায় ঢুকছে বলে জানা যায়। এক সময়ের অতিপরিচিত মাদক সিন্ডিকেটরা নতুন লোকদের দিয়ে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রাখায় প্রশাসনও সহজে তাদের নাগাল পাচ্ছেনা বলে সচেতন মহলের ধারণা।
একটি সূত্রে জানা গেছে, পেকুয়া চৌমুহনীর ৩টি স্পটে এখনও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে পুরাতন সিন্ডিকেট। পেকুয়া বাজারের ভোলাইয়াঘোণার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা প্রধান সড়ক থেকে আস্তানা গুটিয়ে পাড়ার ভিতরে কয়েকটি স্থানে রেখেই এখন হোম সার্ভিসের মাধ্যমে মাদক পৌঁছে দিচ্ছে। বাংলা মদ, গাজা, হিরোইনের পাশাপাশি মরণ নেশা ইয়াবা বিক্রি করে যুব সমাজকে ধবংস করে যাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা।
পেকুয়া সদরের উত্তর মেহেরনাম মচন্যাকাটার মাদক আস্তানা স্থানীয় লোকজনের প্রতিরোধের মুখে ও পুলিশি অভিযানে বন্ধ হয়ে গেলেও তারা এখন আস্তানা গড়ে তুলেছে শিলখালীর কসাই পাড়ায়। এতদিন বাংলা মদ গাজা ব্যবসায় তাদের দখল থাকলেও এখন ইয়াবা ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে ওই সিন্ডিকেট। শিলখালী-মচন্যাকাটা ব্রীজের উত্তর পাশে ইয়াবার টাকা পরিশোধ নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষের ঘটনাও ওই পুরাতন সিন্ডিকেট ইতিমধ্যে ঘটিয়েছে।
ওই সিন্ডিকেট শিলখালীর কসাই পাড়া ছাড়াও পেকুয়া চৌমুহনীতে প্রতিদিন ইয়াবা সরবরাহ করে থাকে। ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, পেকুয়া চৌমুহনী কেন্দ্রিক আরো একটি সক্রিয় ইয়াবা ও হিরোইন সরবরাহকারী সিন্ডিকেটকে পুলিশি অভিযানের ফাঁদে ও প্রভাবশালী একটি মহলের রোষাণলে ফেলে তছনছ করে এখন তারাই পুরোটা নিয়ন্ত্রণ করছে। মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারের সূত্র ধরে পেকুয়ায় অপহরণের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে।
পেকুয়ায় ইয়াবা ঘুটি হিসেবে পরিচিত। সে সুবাদে শিলখালীর চারজন যুবককে স্থানীয় লোকজন ফোরঘুটি হিসেবে খেতাব দিয়েছে। ওই ফোর ঘুটিরাই শিলখালীর পাহাড়ি এলকায় মাদকদ্রব্য মজুদ করে পাহাড়ি জনপদ দিয়ে লোহাগাড়ায় পৌঁছে দেয়। আবার আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে বাশখালীর সীমানা পার করে পৌঁছে দেয় চট্টগ্রামের একটি চক্রের হাতে। এমন চাঞ্চল্যকর সংবাদ প্রকাশ হলেও ওই সিন্ডিকেট এখনো প্রশাসনের নজরের বাইরেই থেকে গেছে।