parbattanews

পেকুয়ায় প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে ডান পা হারানো মোরশেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

10872214_822109564526229_583232223_n
পেকুয়া প্রতিনিধি :

পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ধারালো দায়ের কোপে ডান পা হারানো যুবক মোরশেদের এখন কি হবে?- এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রতিপক্ষের চরম পৈশাচিক জিঘাংসার শিকার যুবক মোরশেদ ডান পা হারিয়ে এখন চমেক হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর নিয়তির ভাগ্যে সুস্থ্য হয়ে বাড়িতে ফিরে আসলে যুবক মোরশেদ সমাজের আট-দশ জনের মতো দু’পায়ে ভর দিয়ে আর কোনদিন হাটা-চলা করতে পারবে না। পা হারানোর বেদনা হয়তো মোরশেদকে মৃত্যু পর্যন্ত ভোগ করতে হবে। কে ফিরিয়ে দেবে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে হারানো হতভাগা মোরশেদের পা?- এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মাঝে।

মোরশেদের মা এ নিয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করলেও এখনো পুলিশ কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারে নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে। আদালতে দায়েরকৃত মামলার এজাহারে ডান পা হারানো মোরশেদের মা বৃদ্ধা মোতাহেরা বেগম উল্লেখ করেছেন, গত মাসের ৮ জানুয়ারি দুপুর ২টার দিকে পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ইউনিয়নের সবুজ পাড়া গ্রামের রহমত আলীর বসত ভিটায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে ধারালো দা-কিরিচ নিয়ে এসে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছিল একই গ্রামের মৃত নুর মোহাম্মদের ৪ পুত্রসহ আরো কয়েজন। পরে খবর পেয়ে রহমত আলীর পুত্র আলমগীর এগিয়ে তাদের বসত ভিটা থেকে গাছ কাটতে বাধা দেন।

এসময় মৃত নুর মোহাম্মদের চার পুত্র যথাক্রমে আবদুর রাজ্জাক (৪৪), জসিম উদ্দিন (৪০), নেজাম উদ্দিন (৩৫), জামাল উদ্দিন (৫০) সহ আরো কয়েকজন লোক ধারালো দা-কিরিচ নিয়ে আলমগীরের উপর মধ্যযুগীয় পৈশাচিক কায়দায় ঝাঁপিয়ে পড়ে। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আলমগীরকে গুরুতর জখম করে। এরপরেও থেমে খাকে নি তাদের তাণ্ডব। আলমগীরকে বাঁচাতে তার ভাই মোরশেদ আলম এগিয়ে আসলে তার ডান পায়ে আবদুর রাজ্জাক ধারালো দা দিয়ে কোপ মারে। সঙ্গে আবদুর রাজ্জাকের অপর তিন ভাইও মোরশেদের শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মোরশেদ আলম। মারাত্মক জখম হয় তার ডান পা। এরপর আবদুর রাজ্জাক গং ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা এগিযে এসে ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত দুই ভাই আলমগীর ও মোরশেদ আলমকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ওই দিনই চিকিৎসকরা তাকে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেফার করে। কিন্তু চমেক হাসপাতালেও তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করে। কিন্তু গত ৯ জানুযারি শুক্রবার সরকারি বন্ধের দিন হওয়ায় ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালের ভাল চিকিৎসকের অভাবে মোরশেদকে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকাস্থ মক্কা-মদিনা জেনারেল হাসপাতার অ্যান্ড ডায়গনস্টিক সেণ্টারে ভর্তি করে। এ হাসপাতালের চিকিৎসকরা গুরুতর জখম মোরশেদের ডান পাযে পচন ধরায় তাকে বাঁচাতেই পা কেটে ফেলেন।

এরপর গত ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মোরশেদ ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল মোরশেদ। সেখানে চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে এসে ফের ভর্তি করায়। বর্তমানে জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে মোরশেদ ডান পা হারিয়ে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে মোরশেদের বৃদ্ধা মা মোতাহেরা বেগম গত ১৯ জানুয়ারি চকরিয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তার পুত্রদের উপর হামলাকারী শীলখালী সবুজ পাড়া গ্রামের মৃত নুর আহামদের চার পুত্র আবদুর রাজ্জাক মাস্টারকে প্রধান আসামী ও তার ভাই জসিম উদ্দিন, নেজাম উদ্দিন, জামাল উদ্দিন, আবদুর রাজ্জাকের স্ত্রী শরীফা বেগমসহ আরো কয়েকজনকে আসামী করে একটি ফৌজদারী ধরখাস্ত দায়ের করেন। আর আদালতে মামলার শুনানী শেষে ওই দিনই আদালতের বিচারক মো: বাহা উদ্দিন কাজী পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে এজাহার হিসেবে নথিভূক্ত করতে নির্দেশ প্রদান করেন।

আদালতের নির্দেশ পেয়ে পেকুয়া থানার ওসি আবদুর রকিব গত ১৯ জানুয়ারি মোরশেদের বৃদ্ধা মা মোতাহেরা বেগমের আদালতে দায়ের করা দরখাস্তটি মামলা হিসেবে নথিভূক্ত করেছেন। যার মামলা নং ১১। ধারা ১৪৩/৩২৪/৩০৭/৩২৬/৩৪ দ:বি।

পেকুয়া থানার ওসি আবদুর রকিব মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশ পেয়ে মামলা থানায় নথিভূক্ত করা হয়েছে। মামলার আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে।

Exit mobile version