নিজস্ব প্রতিনিধি :
পেকুয়া উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মিয়ার পাড়া এলাকায় পাউবোর ৬৫/২বি পোল্ডারের ৫৪নং সুইচ গেইট দখল নিতে দুপক্ষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে যেকোন মুহুর্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। এটি দখল নিতে প্রভাবশালী একটি পরিবার মরিয়া হয়ে উঠার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও তারা ভাড়াটে সন্ত্রাসী নিয়ে ওই সুইচ গেইট তদারকির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে সুইচ গেইট দখল ছেড়ে দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে হুমকি প্রদর্শন করছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছেন।
জানা গেছে, উপজেলার উজানটিয়া ইউনিয়নের মিয়ার পাড়া এলাকার পাউবোর ৬৫/২বি পোল্ডারের ৫৪নং সুইচ গেইটের রক্ষানাবেক্ষন এর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মিয়া পাড়া এলাকার মৃত নুরুল হকের পুত্র মহিউদ্দিন। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় এমইউপি থেকে বৈধ অনুমতিপত্র নিয়ে তদারকি করার দায়িত্ব পান। এমনকি বিগত রোয়ানু ও সাগরের জোয়ারের পানিতে সুইচ গেইটটি আশেপাশে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ মহিউদ্দিন তাৎক্ষণিক দেড় লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করে লোকালয়ে পানি ঢুকা বন্ধ করেন। এদিকে বিষয়টি একটি কুচক্রী মহলের ইন্ধনে ঘোসালপাড়া এলাকার মোকতার কামালের ছেলে জসিম উদ্দিন লাদেন ও তার ভাই আজম উদ্দিন দখলের পাঁয়তারায় মেতে ওঠে।
তদারকির দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন জানান, সুইচ গেইটটি ১নং ওয়ার্ডের মিয়া পাড়ায় অবস্থিত। আমরা নিয়ম মেনে তার দেখভাল করছি। অন্যদিকে জসিম উদ্দিন লাদেন একজন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক ও ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এক সময় সে এই সুইচ গেইটটি দখলে নিয়ে একটি ঘর তৈরি করে মালেশিয়ায় মানবপাচার ও ইয়াবা ব্যবসা শুরু করে। বিগত ১বছর আগে তার সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকা থেকে ২০ জনের বেশি লোক মালেশিয়ায় পাচারের সময় আটক করে থানা পুলিশ। এছাড়াও নিত্যদিন সন্ত্রাসী ও খারাপ প্রকৃতির লোক নিয়ে এ ঘরটি ইয়াবার কারখানায় পরিণত হয়েছিল। যার কারণে এলাকাবাসী তার প্রতি অতিষ্ট হয়ে ওঠে।
এছাড়াও মাছ ধরার জন্য সুইচ গেইটটির আশেপাশে আরসিসি পাইপ বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় স্থানীয়রা ইউপি কার্যালয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেঁড়িবাধ কেটে মাছ ধরার সুযোগ করে দেন। এমনকি প্যারাবন ধ্বংস করে ১৫ একর মতো সরকারী খাস জায়গা দখল করে অবৈধ পন্থায় মাছ চাষ করে হচ্ছে। আর তাতে ইন্ধন দিচ্ছে তার ভাই জামায়াত নেতা আজম উদ্দিন ও স্থানীয় একটি মহল।
বিষয়টি স্বীকার করে স্থানীয় মাঈর উদ্দিন, মো. আকতার, জয়নাল উদ্দিন ও আবদুল খালেক জানান, বর্তমান তদারকির দায়িত্বে থাকা মহিউদ্দিন খুব ভালোভাবে দেখাশুনা করছেন। অন্যদিকে জসিম উদ্দিন গং সুইচ গেইট দখল করে অনেক অন্যায় ও এলাকার ক্ষতি সাধন করেছেন।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ৫৪নং সুইচ গেইট একসময় তদারকি করতেন জসিম উদ্দিন গং। কিন্তু স্থানীয় জনসাধারণের অভিযোগ ও এলাকার ব্যাপক ক্ষতি সাধন অব্যাহত রাখায় স্থানীয় এলাকাবাসী তার কাছ থেকে সুইচ গেইটটি দখল মুক্ত করার আহবান জানায়। সুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় জসিম উদ্দিন লাদেন নিষিদ্ধ বিহিন্দি জাল বসিয়ে মাছ ধরার চেষ্টা করায় তার জালগুলো জব্দ করা হয়। তাছাড়াও স্থানীয়রা তার অনৈতিক কাজ বন্ধ করারও আহবান জানায়।
এদিকে সরাসরি সুইচ গেইট এলাকায় গিয়ে জসিম উদ্দিনকে না পেয়ে তার মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।