parbattanews

পেকুয়া উপজেলার ১২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি

 

মে মাসে ২১ দিনে ২২ মামলা

1063679_538186892912168_556976787_n

এম.জুবাইদ,পেকুয়া:
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সৃষ্টির ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ আইনশৃংখলা পরিস্থিতিরি মুখোমুখি হয়েছে পেকুয়াবাসি। প্রতিদিন কোথাওনা কোথাও গুলির আওয়াজে আঁতকে ওঠে পেকুয়ার জনপদ। সংঘর্ষের ঘটনার আশংকায় চরমভাবে আতংকিত হয়ে দিনাতিপাত করছে সর্বস্তরের নাগরিক। দখল বেদখলের আশংকায় নিজের স্থাপনা বা চৌ-সীমানা ঠিক আছে কিনা তা নিয়ে দূচিন্তার অন্ত নেই অসংখ্য নাগরিকের। লাভজনক প্রতিষ্ঠান বা এলাকাগুলোতে হামলে পড়ছে দুর্বৃত্তরা। মদ জুয়ার প্রকাশ্য বাজার বসলেও থামানোর কেউ না থাকায় তা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে পেকুয়ার অলি গলিতে। নিয়মিত চাঁদাবাজিতে ব্যবসায়ী স্থাপনা নির্মাণকারীরা নিরবে সরবে কেদে বেড়ালেও তাদের শান্তনা দেয়ার লোকও নেই এমন কেউ।

সর্বোপরি ভয়াবহ অরাজকতা ও বিশৃংখল পরিস্থিতি বিরাজ করায় সাধারণ লোকজন থেকে সচেতন মহল পর্যন্ত এক বাক্যে বলে বেড়াচ্ছে পেকুয়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের ইতিহাসে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে আইনশৃংখলার অবনতি হয়েছে আর আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের দায়সারা ও নতজানু মনোভাবে এ পরিস্থিতির ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।

গত কয়েক মাসে পেকুয়ার বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্ন কয়েকটি সন্ত্রাসী ঘটনায় ও বন্দুক যুদ্ধে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের হাজার রাউন্ড গুলি বর্ষণ হলেও পেকুয়া থানা পুলিশ একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি। এবং অস্ত্রের ব্যবহার হওয়া ঘটনাগুলোতে একটি মামলাও দায়ের করেনি বরং অবৈধ অস্ত্রধারীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে নিরীহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি করেছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

দিন দুপুরে পেকুয়া সদরের বাইম্যাখালী থেকে নারী অপহরণ, রাজাখালী ও পেকুয়া সদরের চৈরভাঙ্গা-বাঘগুজারা সড়কে ব্যরিকেট দিয়ে ডাকাতি, রাজাখালী এরশাদ আলী ওয়াকফ এ্যাস্টেটের লবণ চাষীদের লবণ মাঠ দখলে নিতে কথায় কথায় অবৈধ অস্ত্রের মহড়া ও বৃষ্টির মতো গুলিবর্ষণের ঘটনা গুলোতে পুলিশের ভুমিকা ছিল এসব ঘটনাকারীদের পক্ষে এমন অভিযোগ পুলিশের অস্বীকার করার সুযোগ নেই বলেও নাগরিকরা প্রশ্ন তুলেছে।

পেকুয়া থানা কম্পাউন্ডের ৫শ গজের মধ্যে উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে ৫শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে প্রায় তিন ঘন্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধ চললেও ৫ মিনিটের পাড়ি দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি। পেকুয়া বাজারের আতংকিত ব্যবসায়ীরা বার বার ফোনে পেকুয়া থানার ওসিকে জানালেও তিনি কারো কথায় কান দেন নি। রাজাখালীর সুন্দরী পাড়া ও বখশিয়া ঘোনা এলাকার লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় বন্দুকযুদ্ধ ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয় কয়েকশ রাউন্ড অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি বর্ষণ হলেও পুলিশের তৎপরতা তেমন একটা চোখে পড়েনি। দুর্বৃত্তরা এক ব্যবসায়ীর হাতের কব্জি দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিলেও ওই লোকের পক্ষে থানায় মামলা পর্যন্ত নেয়নি পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে রেজাউল করিম প্রকাশ কালু নামক এক সন্ত্রাসীকে শত শত জনতার সম্মুখ থেকে পুলিশ অস্ত্র সহ আটক করলেও পরের দিন ওই লোককে সন্দেহভাজন ৫৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ ও ওই অস্ত্রটি পরিত্যক্ত দেখালে সাধারণ লোকজন আর কিভাবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের উপর ভরসা রাখে এমনটাই তাদের ভাবনা।

অনেক প্রবাসী তাদের বসতঘরের নিরাপত্তার জন্যে ওই অস্ত্রধারীদের মাসিক বা এক কালীন চাঁদা দিয়ে দিন যাপন করছে। কোন প্রকার অনুমতি না নিয়ে কেবল থানায় টাকা দিয়ে অবৈধ বলি খেলার আয়োজন করে জুয়া ও অশ্লীল নাচ গানের আয়োজন করে চলেছে। সেখানেও আধিপত্য বিস্তার ও জুয়ার বোর্ড দখলে নিতে বেপরোয়া গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ বা অস্ত্রধারীদের আটক করতে কোন তৎপরতা নেই বলে সাধারণ লোকজনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি পারিবারিক বিরোধ, রাজনৈতিক ও জমি জমার বিরোধের জের ধরে সৃষ্ট ঘটনায় ক্ষমতাসীনদে সাথে আতাত করে পুলিশ নিরহ ব্যক্তিদের আসামী করে ব্যাপক চাঁদাবাজি করে চললেও ভোক্তভোগীদের নিরবে নিবৃত্তে কাঁদানো ছাড়া গত্যন্তর নেই বলে তাদের অভিযোগ। প্রত্যন্ত অঞ্চলের লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়, সবাই এক সন্ত্রস্থ আতংক গ্রস্থের মধ্য দিয়ে প্রতিটি মুহুর্ত অতিক্রম করছে।

 ২২ এপ্রিল পর্যন্ত পেকুয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে ১১ টি তা মাস শেষে ২২ টিতে দাড়িয়েছে। ২১ মে পর্যন্ত চুরি ডাকাতি অপহরণ ও দস্যুতাসহ পেকুয়া থানায় মামলা রজু হয়েছে ২২ টি। বিভিন্ন ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে কয়েকশ। এপ্রিল মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত সাধারণ ডায়েরীর ঘটনা ঘটেছে ৭৯৮ টি। মার্চ মাসে মামলার সংখ্যা ২২ টি। এর পূর্বের মাসের মামলার পরিসংখ্যান উপস্থাপন করতে গেলেও নিয়মিত মামলার দৈনিক গড়ে ১টির কাছাকাছি। বেশীর ভাগ মামলায় নিরহদের হয়রানি করতে আসামী করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে কোন ঘটনার সাথে নূন্যতম সম্পর্ক নেই এলাকাতেও নেই তাদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে।

Exit mobile version