পেকুয়া প্রতিনিধি:
পেকুয়া উপজেলায় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অর্জনের এক মাত্র বিদ্যাপীঠ পেকুয়া শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ। আর এ কলেজকে সরকারিকরণের জন্য এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি। এ কলেজের পাশের হারের দিক দিয়ে কক্সবাজার জেলার মধ্যে অন্যান্য কলেজের তুলনায় অনেক ভালো। পাশের হারের দিক দিয়ে বেশ কয়েকবার জেলায় প্রথম স্থান লাভ করেন।
উন্নত শিক্ষারমান বজায় রেখে চলছে এ কলেজের পাঠদান। বর্তমানে এ কলেজের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮০০ জন। বিএনপি সরকারের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন কালে পেকুয়ার কৃতি সন্তান সালাহউদ্দিন আহমদ পেকুয়ার গরীব মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উচ্চ মাধ্যমিক লেখা পড়া কথা চিন্তা কওে ১৯৯৫ সালে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে এই কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।
প্রথমে কলেজের যাত্রা শুরু হয় ২৩ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। পর্যায়ক্রমে বর্তমানে ৮শত ছাত্র ছাত্রী। বর্তমানে শিক্ষক কর্মচারীর সংখ্যা ২৭ জন। সম্প্রতি ১৪ দলীয় মহাজোট ততা আ.লীগ সরকার ২য় বারের মত ক্ষমতায় আসলে শিক্ষার ক্ষেত্রে আমুল পরিবর্তন আনেন। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয় এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষা দানের ব্যবস্থা করেন। সে প্রেক্ষিতে অন্যান্য কলেজের ন্যায় শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজও কম্পিউটার ল্যাব এবং আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষা ব্যবস্থা চালুর যাবতীয় উপকরণ সরকার থেকে বরাদ্দ পায়। তাছাড়াও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে থাকে।
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র ও রয়েছে এ কলেজে। সম্প্রতি বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ এবং একটি হাই স্কুল সরকারিকরণ করা হবে। সেই আলোকে পেকুয়া উপজেলায় এক মাত্র কলেজ শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজ আরেকটি হচ্ছে কারিগরী কলেজ (শহীদ জিয়া বি এম আই)। অপর দিকে ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে। উপজেলা পর্যায়ে একটি কলেজ সরকারিকরণ করা হলে শহীদ জিয়াউর রহমান উপকূলীয় কলেজকে সরকারিকরণ করা উচিত।
সরকার কিছু দিন আগে কক্সবাজার জেলার ৮টি উপজেলার মধ্যে সব কয়েটি উপজেলার বিভিন্ন কলেজ কে সরকারী করণের ঘোষনা দেন। সেখানে ঘোষনা আসেনি পেকুয়া উপজেলায় কোন কলেজ সরকারী করণের। পেকুয়াবাসী আজ হতাশায় বুক বেধে আছে। সবার একটি প্রশ্ন পেকুয়ায় কেন সরকারী কলেজ ঘোষনা হল না? যে কলেজটি বয়স প্রায় ২২ বছর।
বিভিন্ন মহল বিভিন্ন ধরণের আলোচনা সমালোচনা তুলছে কেউ বলছে এটি ডিগ্রিমানের কলেজ নয় যার কারণে সরকারিকরণ করা হয়নি। সরকারিকরণ করতে হলে ডিগ্রিমানের কলেজ হতে হবে। আবার অনেকই বলেন এটি সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতিষ্ঠিত কলেজ তাই সরকারিকরণের আলোর মূখ দেখেনি।
কলেজের নামের আগে শহীদ জিয়াউর রহমান লেখা আছে তাই সরকারী করণের ঘোষনা আসেনি। আসলে বাস্তবতার দিকে গেলে কোনটি সত্য সেটি জানতে চাই সচেতনমহল। এদিকে বেশ কয়েকজন কলেজের ছাত্রছাত্রী এ প্রতিবেদককে জানান তাদের দাবি অতিবিলম্বে তাদের কলেজ সরকারিকরণ করা হোক। এলাকাবাসী জানিয়েছেন অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে পেকুয়া জিয়া কলেজকে সরকারিকরণ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি।
এ ব্যাপারে কলেজের অধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান আমি উধর্বতন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করছি। সরকারিকরণের আশ্বাস পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি সরকারিকরণ হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ করছেন।
