parbattanews

ফের উত্তেজনা : ইসরায়েলি ভয়ংকর ড্রোন ভূপাতিত করলো ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ উত্তেজনার পর যখন একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে, ঠিক তখনই আকাশপথে নতুন করে সংঘাতের খবর পাওয়া গেছে। ইরান দাবি করেছে, তারা তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশকারী একটি উন্নতমানের ইসরায়েলি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC) এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশের ‘লার’ শহরের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি ‘হার্মিস ৯০০’ (Hermes 900) ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।

ভূপাতিত করা ‘হার্মিস ৯০০’ ড্রোনটি ইসরায়েলের একটি মাঝারি আকারের, বহুমুখী পেলোড বহনকারী এবং দীর্ঘক্ষণ উড্ডয়নে সক্ষম ড্রোন। এটি মূলত কৌশলগত মিশনের জন্য নকশা করা এবং এটি জনপ্রিয় ‘হার্মিস ৪৫০’ সিরিজের উত্তরসূরি। এই ড্রোনটি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক ড্রোন হিসেবে পরিচিত।

আইআরজিসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো মার্কিন বা ইসরায়েলি বিমান যদি ইরানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে—এমনকি কোনো হামলা না চালালেও—তাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনায় তাৎক্ষণিক এবং সিদ্ধান্তমূলক जवाब দেওয়া হবে। আইআরজিসি-র সাবেক কমান্ডার মেজর জেনারেল মহসিন রাজি জানিয়েছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত না হচ্ছে, ততক্ষণ সশস্ত্র বাহিনীর আঙুল ট্রিগারেই থাকবে।

এই উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যস্থতায় অর্জিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও আমেরিকার মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকে ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেবেন পার্লামেন্ট স্পিকার মুহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাব, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এই প্রস্তাবের মূল দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ১. ইরানের ওপর থেকে সকল প্রাথমিক ও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার। ২. মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সৈন্য প্রত্যাহার। ৩. হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। ৪. ইরানের জব্দকৃত সম্পদ মুক্ত করা। ৫. পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি অব্যাহত রাখা। তবে পরমাণু সমৃদ্ধকরণ এবং হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সাথে ইরানের বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, যদি আলোচনা ব্যর্থ হয় তবে তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে।

বর্তমান এই যুদ্ধবিরতি এবং ইসলামাবাদে আসন্ন বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে চীন, ফ্রান্স ও অস্ট্রেলিয়া। চীন জানিয়েছে, তারা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। ফ্রান্সও মনে করে, এই আলোচনার মাধ্যমে পরমাণু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর একটি স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতে পারে।

 

Exit mobile version