সাগরে মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে নাফ নদী থেকে প্রতিনিয়ত ধরে নিয়ে যাচ্ছে জেলেদের। লুট করছে ট্রলারসহ হাজার হাজার টাকার মাছ ও জাল। ফলে জেলে সম্প্রদায়সহ ট্রলার মালিকরা অসহায় হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, সাগরে মাছ ধরার ভরা মৌসুম এখন। প্রায় দুই মাস ধরে সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ ছিল। মাস অবধি হলো উম্মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগ ও বৈরি আবহাওয়ার কারণে সাগরে নামতে পারেনি জেলেরা। এখন আবহাওয়া অনুকূল ও মাছ ধরার ভরা মৌসুম হওয়ায় পুরোপুরি প্রস্তুতি হয়ে সাগরে মাছ শিকারে গেলো জেলেরা।
কিন্তু নাফ নদী ও সাগরের মোহনায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সাগরে ১০-১৫ দিন মাছ শিকার শেষে ফেরার পথে নাফ নদী ও সাগরের মোহনায় পৌঁছলে মিয়ানমারের আরকানের বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরকান আর্মি অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধরে নিয়ে যাচ্ছে জেলেদের। ফলে মাছ, ট্রলার ও জালসহ সর্বস্ব হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে জেলে পরিবার ও ট্রলার মালিকরা। লাখ লাখ টাকার লোকসানের পাশাপাশি বাজারেও মাছের সংকট দেখা দিচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চলতি মাসের আগস্টে অর্ধশত জেলেকে জিম্মি করেছে আরকান আর্মি। এর মধ্যে গত ২৬ আগস্ট ১১ জন, ২৪ আগস্ট ১৪ জন, ২৩ আগস্ট ১২ জন, ১২ আগস্ট ৭ জনকে আটক করে নিয়ে যায়। যাদের এখনো ফিরিয়ে আনা যায়নি। এর পুর্বেও আরো অনেক জেলে আটকে আছে আরকান আর্মির হাতে।
ধরে নিয়ে যাওয়া ট্রলার মালিক সোলতান আহমেদ বলেন, তার নৌকায় করে ১২ জেলে সাগরে মাছ শিকারে যায়। এসময় বৈরী আবহাওয়ার কারনে জেলেরা ঘাটে রওনা করছিল। এসময় আরাকান আর্মির সদস্যরা নৌকাসহ জেলেদের ধরে নিয়ে যায়। যার কারনে জেলেরা অনিরাপদে রয়েছেন। এ ধরনের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এটির স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।
টেকনাফ পৌরসভার কায়ুকখালীয়া ঘাটে ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম বলেন, সাগরে মাছ শিকার শেষে টেকনাফে ফেরার পথে শাহপরীর দ্বীপের পূর্ব-দক্ষিণে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়া নামক এলাকায় পৌঁছালে আরাকান আর্মির সদস্যরা স্পিডবোটে ট্রলারকে ধাওয়া করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। ট্রলারসহ জেলেদের মিয়ানমারের ফাতংজা নামক খালের নিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এভাবে প্রতিনিয়ত আরকান আর্মির কারনে জেলেরা ভয়ে ও আতংকে রয়েছে। পাশাপাশি ওইসব জেলেদের পরিবার অর্ধহারে অনাহারে দিনাতিপাত করছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই পর্যন্ত নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে আরাকান আর্মি ২৩৭ বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে গেছে। এসময় ট্রলার ও জালও নিয়ে যায়। এর মধ্যে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রচেষ্টায় কয়েক দফায় ১৮৯ জন জেলে এবং ২৭টি ট্রলার-নৌকা ফেরত আনা হয়েছে। সাগর ও নাফ নদীর বাংলাদেশ সীমান্তে বিজিবি, কোস্ট গার্ডের পাশাপাশি নৌ বাহিনীর টহল জোরদার করার দাবী জানান জেলে ও স্থানীয় সচেতন মহল।
